পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন বা ‘পুশব্যাক’ প্রক্রিয়া নিয়ে এই প্রথম রাজ্য বিধানসভায় এক নজিরবিহীন ও লিখিত পরিসংখ্যান পেশ করল আসাম সরকার। সোমবার (১৩ জুলাই) বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্বয়ং এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে আসামের ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’ কর্তৃক বিদেশি ঘোষিত ব্যক্তি এবং সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারী মিলিয়ে মোট ১,৬৭৯ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বা প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিধানসভায় জানান, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই ১,৬৭৯ জন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি মূলত ১৯৫০ সালের ‘ইমিগ্রেন্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট’-এর ধারা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হচ্ছে, যা গত দুই বছর ধরে অসমে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত সরকারের এই ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক পুশ-ইন ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে বাংলাদেশ সরকার। তা সত্ত্বেও অসমের সীমান্ত দিয়ে এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এআইইউডিএফ বিধায়ক বদরুদ্দিন আজমলের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মুখ্যমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান পেশ করেন। তবে প্রত্যর্পণের বিশদ বিবরণ তিনি দেননি। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভাকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর সময় তাঁদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা সুনিশ্চিত করেছে রাজ্য প্রশাসন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে সমস্ত সন্দেহভাজন বা বিদেশি ঘোষিত ব্যক্তির আপিল বা আইনি লড়াই এখনও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের এখনই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বা প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে না।

এদিনের অধিবেশনে কংগ্রেস বিধায়ক নুরুল ইসলামের অপর একটি প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে অসমের ভোটার তালিকায় মোট ৯১,৩৮৫ জন ‘ডি-ভোটার’ বা সন্দেহভাজন নাগরিক রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ডি-ভোটার রয়েছে সোনিতপুর জেলায় (১৩,৭১৯ জন)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বরপেটা জেলা (৮,০৮১ জন)। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য, এই ৯১,৩৮৫ জন ডি-ভোটারের মধ্যে ৫৬,৭২৮ জনকে রাজ্যের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালগুলি ইতিমধ্যেই ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এদের মধ্যে ৮৩১ জন ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলেও, উচ্চতর আদালতও তাঁদের আবেদন খারিজ করে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে।