পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী চৌহানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরেই বড়সড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজ্যে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি এবং হিংসা সম্পূর্ণ নির্মূল করতে এবার কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের ডানা ছাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় নতুন বিল এনে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে যাবতীয় আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হবে বলে এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মন্ত্রী। অন্যান্য রাজ্যের মডেলে সেই আর্থিক ক্ষমতা এবার তুলে দেওয়া হবে সরকারি আধিকারিকদের হাতে। একইসঙ্গে, গ্রামীণ আবাস যোজনা নিয়েও এ দিন বড় বার্তা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, রাজ্যের জন্য নতুন করে এক লক্ষ বাড়ির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।


কৃষি, উদ্যানপালন, গ্রাম উন্নয়ন এবং পঞ্চায়েত রাজ; সবকটি বিষয় নিয়ে এ দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয় রাজ্যের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে এ দিনের এই বৈঠককে রাজ্যের উন্নয়নের ইতিহাসে একটি ‘মাইলস্টোন’ বা যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপবাবু জানান, রাজ্যের উন্নয়নে এই ধরনের সার্বিক কোনও বৈঠক বাংলায় এর আগে কখনও হয়নি।
কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের উন্নয়নে সমস্ত রকম সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ। তবে রাজ্যের বর্তমান পঞ্চায়েত পরিকাঠামো নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় শিবরাজ জি তো দু’হাত খুলে আমাদের দেওয়ার জন্য এসেছেন। কিন্তু আমাদের এখানকার পঞ্চায়েত রাজের যা পরিকাঠামো, তাতে কর্মী নেই।
প্রধানরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কোনও সহযোগিতা মিলছে না। তা সত্ত্বেও আমরা জোরকদমে কাজ করে চলেছি।’ তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের তরফ থেকে সবরকম সহযোগিতা সব সময় থাকবে। এ দিনের বৈঠকের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হল আবাস যোজনা। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আজই এক লক্ষ আবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেই প্রকল্পের সার্ভের কাজ চলছে।

তবে এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে সবথেকে বেশি শোরগোল ফেলে দিয়েছে পঞ্চায়েত প্রধানদের ক্ষমতা খর্ব করার বিষয়টি। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রধানদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক দুর্নীতি এবং কাটমানির অভিযোগ ওঠে। সেই দুর্নীতিতে রাশ টানতেই এবার কড়া হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে দফতর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নতুন বিল আনার কথা ঘোষণা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বিল নিয়ে এসে প্রধানদের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নেব আমরা। তারা যে বিলে সই করে, তার জন্য ভ্রষ্টাচার দুর্নীতি হয়, হিংসা হয়। সেটা নিয়ে সরকারি অফিসারদের হাতে দেওয়া হবে যেটা অন্যান্য রাজ্যে আছে।’
এই বিপুল পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে কিছু প্রশাসনিক স্তরে যে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে, সে কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন মন্ত্রী। তবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে সব ঠিক।’ অন্যদিকে, পূর্ব ভারতের বীজ কেন্দ্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলার বিষয়েও এ দিন সাংবাদিকদের তরফ থেকে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সার্বিকভাবে এ দিনের বৈঠক রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।