পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল পরাজয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। ঘাসফুল শিবিরের তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক বিজেপিতে যোগ দিয়েই পেলেন রাজ্যসভার টিকিট। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির অন্দরে 'তৃণমূলীকরণ' রোখার বিষয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন, এই দলবদলের পর তাঁর সেই ভূমিকা সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। আর দলের অন্দরে বা বাইরে এই নিয়ে ওঠা যাবতীয় জল্পনা ও সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
আরও পড়ুন:
ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরপরই দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর সেই দেখানো পথে হেঁটেই একে একে সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিক। ইস্তফার মাত্র এক মাসের মাথায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরেই প্রথম তিন জন আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম-শিবিরে যোগদান করেন। ওই দিন রাতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে তাঁদের তিন জনকেই রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে চলা রাজ্যসভা নির্বাচনে বিধানসভার বর্তমান সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁদের জয় কার্যত নিশ্চিত।
আরও পড়ুন:
বিজেপির এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত দলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে কি না, রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই প্রশ্নেরই স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই তিন নেতাকে পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, এঁরা রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও সাংসদ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে দলকে জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক মামলা নেই। অতীতে যা হওয়ার হয়েছে, এখন তাঁদের নতুন করে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংসদে বিজেপিরও দক্ষ প্রতিনিধির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দলের কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর সাফ বার্তা, এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মীদের অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার কোনও প্রয়োজন নেই, পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই অত্যন্ত সুচারুভাবে বুঝে নেবেন। মূলত, সমালোচনা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলীপ ঘোষ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অঙ্গ হিসেবেই এই তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে আত্মসাৎ করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।