পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত সীমান্তে এ বার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে চলেছে। ওই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং স্থানীয় প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, শুধুমাত্র মেখলিগঞ্জ ব্লকের সীমানাতেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্দেশ্যে বিএসএফের তরফ থেকে প্রায় ১৪৮ একর জমির আবেদন করা হয়েছে।

সার্বিক ভাবে কোচবিহার জেলায় এখনও প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছুটা নদীপথ হলেও বাকি স্থলভাগে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নদীপথের সুরক্ষার জন্য বিএসএফ ইতিমধ্যেই বিকল্প পরিকাঠামোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, স্থলভাগের সীমানা সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপে জেলার মোট ২৪০ একর জমি প্রশাসনের কাছে চেয়েছিল সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এর মধ্যে প্রায় ১৮৫ একর জমি ইতিমধ্যেই বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন করে আরও ৫৩ একর জমির আবেদন জানানো হয়েছে, যার জরিপের কাজও শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসন ও বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেড়া দেওয়ার কাজে যে জমির প্রয়োজন তার মধ্যে ৪০ একর জমি সম্পূর্ণ সরকারি।

ফলে এই জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি বা প্রশাসনিক কোনও জটিলতা নেই। বেসরকারি মালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে প্রশাসন প্রথম পর্যায়ে ৪২ একর এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১০৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফকে হস্তান্তর করেছে। অর্থাৎ, বাহিনীর প্রথম দফার দাবির মধ্যে আর প্রায় ৫৫ একর জমি তুলে দেওয়া বাকি রয়েছে।

সব মিলিয়ে পুরনো দাবির ৫৫ একর এবং নতুন করে চাওয়া ৫৩ একর। মোট ১০৮ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ বর্তমানে বাকি রয়েছে।

প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে এই অবশিষ্ট জমি হস্তান্তরের কাজ যাতে সুচারু ভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার জন্য প্রশাসনের তরফে সব রকম প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সবচেয়ে বড় অংশটি মেখলিগঞ্জ ব্লকে অবস্থিত (প্রায় ১৪৮ একর)। এর পরেই রয়েছে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লক, যেখানে বিএসএফের প্রয়োজন প্রায় ৫০ একর জমি। ইতিমধ্যেই এই দু’টি ব্লকের সিংহভাগ জমি অধিগ্রহণ করে বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি ছাড়াও মাথাভাঙা এবং তুফানগঞ্জ মহকুমা এলাকাতেও সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে জমি চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।