প্রায় সাত দশকের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার নারসিপুর কলান গ্রামের একটি জমির ১৯৫৭ সালের বিক্রয় দলিলকে বৈধ বলে ঘোষণা করল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ে স্বস্তি ও আনন্দে ভাসছেন জমির দাবিদার শরাফত আলি ও তাঁর পরিবার।

মামলাটি এতটাই পুরনো যে, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই মামলার বয়স বর্তমান বিচারপতিদের বয়সেরও বেশি। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং এন ভি আঞ্জারিয়া-র বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়।
জানা গেছে, ১৯৫৭ সালের ৪ জুন শরাফত আলির পূর্বপুরুষেরা একটি বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে জমিটি কিনেছিলেন।

পরিবারের দাবি, জমি কেনার পর থেকেই সেটি তাঁদের দখলে ছিল এবং ১৯৮৪ সালে সরকারি নথিতেও তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু পরে জমির মালিকানা নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং দলিলের বৈধতা নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই।
১৯৯৯ সালে সংশ্লিষ্ট ভূমি একীকরণ আধিকারিক ওই দলিলকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দেন। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত ও উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট-ও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শরাফত আলি।

সুপ্রিম কোর্টে শরাফত আলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জমি কেনার সময় তাঁর পূর্বপুরুষেরা নাবালক ছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জমিটির ভোগদখল তাঁরাই করে আসছেন এবং দলিল জালিয়াতির কোনও প্রমাণ কখনও পাওয়া যায়নি।
রায়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, দলিলটি জাল ছিল বা কাউকে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল—এমন কোনও অভিযোগ বা প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপিত হয়নি। শুধুমাত্র কিছু অসঙ্গতির ভিত্তিতে একটি পুরনো দলিল বাতিল করা ন্যায়সঙ্গত নয়।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত ১৯৫৭ সালের ওই বিক্রয় দলিলকে বৈধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে চার প্রজন্ম ধরে চলা আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল এবং অবশেষে জমির মালিকানা ফিরে পেল শরাফত আলির পরিবার।