পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সরকারের জোরজুলুম ও চাপিয়ে দেওয়া নির্বাচনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ক্ষোভ জমছিল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে)। সোমবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই সেই ক্ষোভ কার্যত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তান পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, রাওয়ালকোট এবং কোটলির মতো এলাকাগুলি রীতিমতো রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে।
নির্বাচন বানচাল করতে একাধিক জায়গায় ব্যালট বাক্স পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, গত ৫২ দিন ধরে রাওয়ালকোটে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিল ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)। স্থানীয়দের দাবি, এই কমিটির একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপরই নিরাপত্তাবাহিনী অতর্কিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি শিউরে ওঠা ভিডিওতে পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলার প্রমাণ মিলেছে।
আরও পড়ুন:
ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাজপথে সারি দিয়ে একাধিক মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।
ওই ভিডিওতেই এক আতঙ্কিত প্রত্যক্ষদর্শীকে বলতে শোনা যায় যে, রাওয়ালকোটের রাস্তায় সর্বত্র লাশ ছড়িয়ে রয়েছে এবং তিনি কোনওক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরতে পেরেছেন। ওই ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদও করেন।আরও পড়ুন:
হিংসা ও প্রাণহানির পাশাপাশি এই নির্বাচনে ব্যাপক মাত্রায় ভোট লুঠ ও কারচুপির অভিযোগ সামনে এসেছে। কোটলি জেলার নিকিয়ালে ভোটগ্রহণ চলাকালীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) এক কর্মী মুখতার ইউনুসকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি। তিনি এই খুন ও বুথ দখলের জন্য সরাসরি মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) শিবিরকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। অন্যদিকে, প্রহসনের এই নির্বাচন সম্পূর্ণ বয়কট করেছে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।