পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করে দিল্লিতে এনসিপিআই-এর হাত ধরেছেন কলকাতা উত্তরের দীর্ঘদিনের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সোমবার রাতে বৈঠকও করেছেন। তারপরেই রাতারাতি উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা, এমনকি খোদ সাংসদের বাড়ির কাছাকাছি অংশও সুদীপ-বিরোধী পোস্টারে ছেয়ে যায়।

 ওই পোস্টারগুলিতে সাংসদকে 'চোর' এবং 'বেইমান' বলে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পোস্টারগুলির নিচে প্রচারক হিসেবে বর্তমান মন্ত্রী তাপস রায় এবং কালীঘাটের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে গভীর ষড়যন্ত্রের জল্পনা শুরু হয়েছে।

ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর পুরনো দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল্লিতে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক শিবির বেছে নিয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর সোমবার নবান্নে তাঁর ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। আর তার পরপরই মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসীর নজরে আসে এই পোস্টারগুলি। একাধিক জায়গায় সাঁটানো পোস্টারে সাংসদের ছবির সঙ্গে লেখা হয়েছে ‘বেইমান আর চোরটা, নয়নাদিদির বরটা’। গোটা ঘটনা নিয়ে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত মুখে কুলুপ আঁটলেও, পোস্টারে নাম থাকা দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এর দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

পোস্টারের সঙ্গে নিজের কোনওরকম যোগ থাকার কথা স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। অন্যদিকে, মন্ত্রী তাপস রায়ও পোস্টার দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি পোস্টারের অন্তর্নিহিত ক্ষোভের বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানান, পোস্টারে যা লেখা হয়েছে তার সঙ্গে তিনি একমত, কারণ দলের কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কেউই সাংসদকে দরকারে কাছে পান না। উল্লেখ্য, উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাপস রায় ও কুণাল ঘোষের রাজনৈতিক তিক্ততা দীর্ঘদিনের। অতীতে লোকসভা নির্বাচনের আগে তাপস রায়ের দলত্যাগের পিছনেও সুদীপের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রকাশ্যেই সরব হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ।