পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলত্যাগী তথা এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে তিনি লোকসভায় এনসিপিআই-এর দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সর্বদল বৈঠকের ঠিক আগের মুহূর্তে মোদি ও সুদীপের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও এনসিপিআই-কে সম্পূর্ণ আলাদা দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও, আসন্ন বাদল অধিবেশনে এই শিবিরের ২০ জন সাংসদকে বসার জন্য আলাদা আসন বরাদ্দ করেছে এনডিএ জোট।
এই আবহে দলের চূড়ান্ত স্বীকৃতি আদায়ে তৎপর হয়েই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন কি না, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।আরও পড়ুন:
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দুই নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বর্তমানে ডবল ইঞ্জিন সরকার চলায় এবং বিরোধী তৃণমূল ছেড়ে আসা অধিকাংশ সাংসদ এখন এনডিএ শিবিরের অংশ হওয়ায়, একসঙ্গে উন্নয়নের কাজ করা অনেক বেশি সহজ হবে বলে মনে করছেন এনসিপিআই নেতৃত্ব। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে সেই সহযোগিতার বার্তাই দিয়েছেন এবং উলটোদিকে নরেন্দ্র মোদিও বাংলার সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
দিল্লির রাজনৈতিক বৃত্তে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে এই সাক্ষাতের গুরুত্ব অনেকটাই আলাদা।আরও পড়ুন:
এদিকে, রবিবার কেন্দ্র সরকারের ডাকা সর্বদল বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পেয়েছে এনসিপিআই। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের নামে পাঠানো সেই চিঠিতে তাঁদের দলবদলের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যায় সংসদীয় সচিব যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ওই তালিকায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সাংসদ সংখ্যা ২৮ জনই দেখানো হয়েছে এবং পাশে একটি বিশেষ চিহ্ন দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁদের মধ্যে ২০ জন সাংসদ অধিবেশনে আলাদা আসনে বসবেন।