পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অগস্ট মাসের শেষে হারাতে হবে চাকরি, এই ঘোর অনিশ্চয়তা ও তীব্র মানসিক অবসাদের জেরে পুরুলিয়ায় এক স্কুলশিক্ষিকার আত্মহত্যার অভিযোগ সামনে এল। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। মৃতার নাম ঈপ্সিতা দাস মহাপাত্র (৩৪)। তিনি পুরুলিয়া শহরের ভাটবাঁধ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলভুক্ত এই শিক্ষিকা পুরুলিয়া-২ ব্লকের একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা বিষয় পড়াতেন। কিন্তু এসএসসি দুর্নীতি মামলায় আদালত যে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের কড়া নির্দেশ দিয়েছিল, সেই বাতিল তালিকাতেই নাম ছিল ঈপ্সিতার। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের এসএলএসটি পরীক্ষাতেও তিনি মেধাতালিকায় স্থান করে নিতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালতের নির্দেশ ও নিয়মানুযায়ী আগামী ৩১ অগস্ট তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

মৃতার পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঈপ্সিতা সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছিলেন এবং এর জন্য কাউকে কোনও ঘুষ দেননি।

কিন্তু আগামী মাসেই বেকার হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক তাঁকে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তীব্র অবসাদের কারণে তাঁকে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে হত। গত বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই করুণ পরিণতির জন্য সরাসরি স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) কাঠগড়ায় তুলেছে ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’ (জেএসএসএএম)। সংগঠনের পুরুলিয়া কোর কমিটির সদস্য শুভাশিস পান ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় অনেক যোগ্য শিক্ষকই চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ৩১ অগস্টের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নতুন সরকারের তরফে যোগ্যদের চাকরি ফেরানোর কোনও প্রতিশ্রুতি এখনও পর্যন্ত রক্ষা করা হয়নি, যা শিক্ষকদের আরও হতাশ করে তুলেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের এই মামলাটিতে নিয়োগের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এসএসসি। গত বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিংহের এজলাসে এই মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী আদালতের কাছে আরও দু'সপ্তাহের সময় চেয়েছেন।