উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: দেনার দায়ে আত্মঘাতী ছেলে, আর গ্রেফতার হলেন বাবা। ব্যবসার জন্য সোনার গয়না বানানোর অর্ডার নিয়ে বহু ক্রেতার থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছিলেন পেশায় স্বর্ণব্যবসায়ী বাবা ও ছেলে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও গয়না ডেলিভারি করতে পারেননি। এই নিয়ে চাপ বাড়ছিল বাবা,ছেলের উপরে। বুধবার রাতে রেল লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন ছেলে নীলাঞ্জন কর্মকার। প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর বাবা সমর কর্মকারকে। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শুভ ও সমর কর্মকারের সোনার গয়নার দোকান রয়েছে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। পাড়ার বহু মহিলা গয়না বানানোর জন্য এই দোকানে অর্ডার দিয়েছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কারও থেকে অগ্রিম হিসাবে পাঁচ হাজার, কারও কাছে ১০ হাজার টাকা নেন বাবা–ছেলে। অভিযোগ, গয়না ডেলিভারি দেওয়ার সময়ে তাঁরা ঘুরিয়েছেন ক্রেতাদের। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতেই থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন অন্তত ৩০-৪০ জন বাসিন্দা। বুধবার সন্ধ্যায় ওই সোনার দোকানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান এলাকার মহিলারা। আসে সোনারপুর থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। এর মধ্যেই সমর জানান, তাঁর ছেলে শুভকে সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার বেশি রাতে শুভর দেহ উদ্ধার হয়।

 

পুলিশের দাবি, টাকা নিয়ে গয়না দিতে না পারায় চাপ বাড়ছিল তাঁদের উপরে। শুভর বাইকটি পড়ে ছিল সুভাষগ্রাম রেল গেটের কাছে। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয় সমরকে।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাজারে সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ঋণ হয়ে গিয়েছিল বাবা–ছেলের। একটি সূত্রের দাবি, সমরের সোনার দোকানটিও বন্ধক রাখা ছিল। সেটা ছাড়াতে প্রয়োজন ছিল অনেক টাকা। তার জন্যই এ ভাবে ক্রেতাদের থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছিলেন শুভ। সমর জানিয়েছেন, তিনি নন, ইদানীং ব্যবসার দেখাশোনা করতেন তাঁর ছেলেই।

পুলিশ জানিয়েছে, সোনার আকাশছোঁয়া দাম এবং বিপুল দেনার চাপ সামলাতে নাজেহাল হয়ে পড়েন বাবাছেলে। তার মধ্যে অগ্রিম নিয়ে গয়না ডেলিভারির চাপ বাড়ছিল তাঁদের উপরে। একদিকে দোকানে ঝামেলা অন্যদিকে পুলিশের কাছে প্রতারণার অভিযোগ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন শুভ। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে মনে করছে পুলিশ।এলাকায় ভদ্র পরিবার হিসেবে পরিচিত ছিলেন সমর ও শুভ। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই ব্যবসার মন্দায় তাঁরা বিপাকে পড়েন। দোকান বন্ধক দেওয়ার পর বিপদ আরও বাড়ে। ক্রমবর্ধমান ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীর থেকে অগ্রিম টাকা নেন তাঁরা। কিন্তু মূলধনে টান পড়ায় সময়ে গয়নার অর্ডার ডেলিভারি দিতে না পেরে এলাকাবাসীর রোষের মুখে পড়েন তাঁরা।