উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুর কাণ্ডে গত কয়েক দিন ধরে উত্তাল রাজ্য। এবার বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল বারুইপুর জেলা পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে তাকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং বারুইপুর জেলা পুলিশ। এই গ্রেফতারির পর এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। তবে এরই মধ্যে পালানোর চেষ্টা করায় মঙ্গলবার রাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ধৃত প্রভাস মণ্ডলের।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছিল ওই অভিযুক্ত। গোপন সূত্রে তার হদিস পেয়ে পুলিশ ও বিশেষ টাস্ক ফোর্সের যৌথ বাহিনী উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাকে। ধৃতকে রাতেই বারুইপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনায় তার ঠিক কী ভূমিকা ছিল এবং অপরাধের পিছনে আর কারা জড়িত, তা জানতে তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

এদিন গ্রেফতারের পর এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।

ঘটনার মূল চক্রীদের কাউকেই আড়াল করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। এদিকে, পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর পর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

এই নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই বারুইপুরের সূর্যপুর ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে দফায় দফায় পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এক পর্যায়ে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং উত্তেজিত জনতা কর্তব্যরত পুলিশের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার বারুইপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরই আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ খতিয়ে দেখে বাকি হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

বুধবার ২০ জনকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ। তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় তদন্তকারীরা।

বারুইপুর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনার তদন্ত যেমন অত্যন্ত গুরুত্ব ও দ্রুততার সঙ্গে চালানো হচ্ছে, তেমনই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাতেও কাউকে রেয়াত করা হবে না। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।