পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মোবাইল ফোনের চ্যাটিং নিয়ে সামান্য বচসা। আর তার জেরেই এক ৩৮ বছর বয়সী বিবাহিত প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে কাটার অভিযোগ উঠল প্রেমিকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহের খণ্ডিত অংশগুলি উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে জৌনপুরের মডিয়াহু থানা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত অভিযুক্তের নাম হেমাঙ্গ খাখারিয়া ওরফে দিলীপ (৪২)।

রবিবার রাতে পুলিশের সাথে এক রুদ্ধশ্বাস এনকাউন্টারের পর জখম অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত মহিলার নাম রেশমা খান ওরফে সানা (৩৮)।

মডিয়াহু থানার স্টেশন হাউস অফিসার  দীপেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, অভিযুক্ত হেমাঙ্গ খাখারিয়া ওই মহিলাকে বারাণসীর বাণাতপুর থেকে জৌনপুরের মডিয়াহু থানার অন্তর্গত টিচার্স কলোনির একটি আবাসে নিয়ে এসেছিল। সেখানেই দুপক্ষের মধ্যে মোবাইল ফোনের একটি চ্যাট নিয়ে তীব্র বিবাদ শুরু হয়। বিতর্ক চরম রূপ নিলে, ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিযুক্ত।

ওই মহিলা যখন রাতে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর গলা কেটে দেয় হেমাঙ্গ। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত স্বীকার করেছে, গোটা দেহটি একসাথে কোথাও লোপাট করা কঠিন ছিল। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়েই সে দেহটি কেটে টুকরো টুকরো করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর জন্য সে বাজার থেকে কালো পলিথিন ব্যাগ কিনে আনে এবং একটি বড় কাটারি ব্যবহার করে মহিলার হাত, পা কেটে দেহটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে।

রবিবার সকালে মডিয়াহু থানা এলাকার রানিপুর বাইপাসের কাছে ঝোপের মধ্যে একটি ক্ষতবিক্ষত ধড় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁরাই তড়িঘড়ি পুলিশকে খবর দেন। এসএইচও দীপেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল তদন্তে নামে এবং মহিলার পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি অভিযুক্তের খোঁজ শুরু করে। রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ রামনগর ব্লক গেটের কাছে হেমাঙ্গ খাখারিয়াকে ঘিরে ফেলে। পুলিশকে দেখে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত এবং পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি চালালে হেমাঙ্গের পায়ে গুলি লাগে। অবশেষে রবিবার মধ্যরাত নাগাদ জখম অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।