পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিচ্ছিন্নতাবাদকে উৎসাহিত করার অভিযোগে দুটি বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন । পাশাপাশি বই দুটির লেখক ও প্রকাশকদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বই সংগ্রহ ও অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত একজন অধ্যক্ষসহ আটজন শিক্ষা আধিকারিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, বিশেষ করে বিজেপি, স্কুল লাইব্রেরির জন্য এই বই সংগ্রহের ঘটনাকে ‘একাডেমিক জিহাদ’ বলে সমালোচনা করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের শিক্ষা বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিষিদ্ধ হওয়া বই দুটির মধ্যে একটি হলো ‘পার্সোনালিটিজ অ্যান্ড লেজেন্ডস অফ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর’ যা ২০১৭ সালে জম্মুর একটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়। বইটির রচয়িতা হিলাল আহমেদ ও সন্তোষ মীনা। অন্য বইটি ‘গ্রেট পার্সোনালিটিজ অফ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর’,  যার লেখক ড. সুশান্ত গিরি এবং এটি দিল্লির একটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। দুটি বইই কেন্দ্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত ‘সমগ্র শিক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছিল।

শিক্ষা বিভাগের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বই দুটির লেখক ও প্রকাশকদের জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নিষিদ্ধ ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের রচিত বা প্রকাশিত অন্যান্য মুদ্রিত সামগ্রীও প্রত্যাহার করা হবে। প্রশাসনের দাবি, চলতি বছরে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীনে ৩৬৪টি প্রকাশনা সংস্থার জমা দেওয়া ৪৬৩টি বই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার মধ্যে দুটি বইয়ে অত্যন্ত অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু পাওয়া গেছে। বই দুটির ২৫০টি করে কপি জম্মু, রামবান, উধমপুর ও বারামুল্লা জেলায় বিতরণ করা হয়েছিল।

সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, বই অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলা, কর্তব্যে গাফিলতি এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের মতে, বইগুলিতে এমন বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত ছিল যা বিচ্ছিন্নতাবাদকে উৎসাহিত করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

এদিকে, গত বছরও উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের মহিমান্বিতকরণের অভিযোগে ২৫টি বই বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে লেখা বেশ কয়েকটি আলোচিত গ্রন্থও অন্তর্ভুক্ত ছিল।এই বইগুলোর মধ্যে ছিল অরুন্ধতী রায়ের ‘ আজাদি’ , সুমন্ত্র বসুর ‘ কাশ্মীর অ্যাট দ্য ক্রসরোডস অ্যান্ড কনটেস্টেড ল্যান্ডস’ , এ জি নুরানির ‘ দ্য কাশ্মীর ডিসপিউট ১৯৪৭-২০১২’ , অনুরাধা ভাসিনের ‘ এ ডিসম্যান্টলড স্টেট (দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ কাশ্মীর আফটার আর্টিকেল ৩৭০)’ , ডেভিড দেবদাসের ‘ ইন সার্চ অফ এ ফিউচার (দ্য স্টোরি অফ কাশ্মীর)’ এবং হাফসা কাঞ্জওয়ালের ‘ কলোনাইজিং কাশ্মীর: স্টেট-বিল্ডিং আন্ডার ইন্ডিয়ান অকুপেশন’। সমগ্র ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন।