পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভারতের নতুন আমদানি নীতি ও কড়াকড়ি পরীক্ষার কারণে গত মে মাসের শুরু থেকে নেপালের চা রফতানি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রায় দুই মাস স্থবিরতার পর ৩০ জুন থেকে রফতানি পুনরায় শুরু হলেও, এই সংকট নেপালের চা শিল্পে নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। সম্প্রতি সরকারি টাস্ক ফোর্সের একটি প্রতিবেদনে নেপালের চা রফতানির উপর ভারতের একক নির্ভরশীলতা কমিয়ে গুণমান বৃদ্ধি ও নতুন বিকল্প বাজারের দিকে নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

নেপালের জাতীয় চা ও কফি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ২৬.৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন করে, যার প্রায় ৮৬ শতাংশই ভারতে রফতানি করা হয়।

দীর্ঘদিনের এই নির্ভরশীলতার ফলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়মাবলি নেপালি চা চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছিল। রফতানি পুনরায় চালু হলেও এখন থেকে ভারতের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মোট চালানের ২০ শতাংশ চা কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে।

জাতীয় চা ও কফি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক দীপক খানাল জানান, এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা এখন গুণমান উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চা উৎপাদনকারীদের পণ্যের গুণমান আরও উন্নত করতে নির্দেশ দিয়েছি এবং একই সাথে বাজারের বৈচিত্র্য আনার ওপর কাজ করছি।

’ চিন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপকে নেপালি চায়ের জন্য সম্ভাব্য নতুন ও বড় বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নেপালের ইলাম ও ঝাপা জেলায় অবস্থিত চা বাগানগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মরত। চা প্রক্রিয়াকরণের কাজে এখনও বাগানগুলো অনেকাংশেই ভারতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভরশীল। তবে এখন ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় নেপাল। বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি নীতিতে ভারতের ওপর এই অতি-নির্ভরশীলতা কাটানোই ভবিষ্যতে নেপালের চা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার একমাত্র পথ।