পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ  ভারতে ই-২০ পেট্রোল চালু হওয়া নিয়ে যখন জোর বিতর্ক চলছে, তখন প্রতিবেশী ভুটান ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর (আইওএমসি) ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। ভুটানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় বাজারে সাধারণ পেট্রোল উপলব্ধ থাকা পর্যন্ত তা সরবরাহ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে থিম্পু। তবে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল সরবরাহে আপত্তি জানিয়েছে। 

কেন ই-২০ পেট্রোলে আপত্তি ভুটানের?

ভুটানের এই অবস্থানের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দেশের জ্বালানি সংরক্ষণ ও পরিবহণ পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভুটানের বর্তমান সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে পুরোনো।

ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। এ ছাড়া ভুটানের দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পাহাড়ি রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে শক্তি বেশি প্রয়োজন হয়। কিন্তু ই-২০ পেট্রোল হয়ত বেশি কর্মক্ষমতা প্রদান করতে পারবে না বলেই সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সাধারণত ই-২০ পেট্রোল বলতে ২০ শতাংশ ইথানল ও ৮০ শতাংশ পেট্রোলের মিশ্রণকে বোঝায়। ভারতে ধাপে ধাপে এই জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে ২০২৩ সালের আগে নির্মিত বহু পেট্রোলচালিত গাড়ির মালিক ই-২০ ব্যবহারে জ্বালানি দক্ষতা কমে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং গাড়ির যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করে আপত্তি তুলে আসছেন। যদিও সরকার স্বীকার করেছে যে ই২০ ব্যবহারের ফলে মাইলেজ কিছুটা কমে যায়, তবে গাড়ির গতি বৃদ্ধি এবং ইঞ্জিনের উন্নত পারফরম্যান্সের কারণে এই অসুবিধা পুষিয়ে যায়। ভুটান তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় সম্পূর্ণটাই ভারত থেকে আমদানি করে। বর্তমানে দেশটি ভারত থেকে পেট্রোল ও ডিজেল সংগ্রহ করে থাকে। ফলে ভারতের জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব ভুটানের উপরও সরাসরি পড়ে। তবে, ভুটানের বাণিজ্য বিভাগ ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থা আইওসিএল, বিপিসিএল, এইচপিসিএল-এর ই২০ পেট্রোল সরবরাহের প্রস্তাবকে কঠোরভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সাধারণ পেট্রোলের মতো নয়, ই২০ বা ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোলে একটি হাইড্রোক্সিল গ্রুপ থাকে। এর ফলে এটি অত্যন্ত আর্দ্রতাগ্রাহী হয়। অর্থাৎ, এটি খুব সহজেই চারপাশ থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে। অন্যদিকে, বিশুদ্ধ পেট্রোল সহজে জল শোষণ করে না।  ভুটানের অধিকাংশ জ্বালানি ডিপো উচ্চ আর্দ্রতাযুক্ত পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে, এমন পরিস্থিতিতে সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে আর্দ্রতা প্রবেশ করতে না দেওয়া বা ঘনীভবন রোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুটান চায়, যতদিন সম্ভব সাধারণ পেট্রোলের সরবরাহ বজায় থাকুক। কারণ তাদের বর্তমান পরিকাঠামো ও ভৌগোলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সেটিই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।