পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে ভারতের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। পাল্টা জবাবে তেহরান দাবি করেছে, ওমান উপকূলে ভারতের নাবিকবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতেই এই ড্রোন হামলা সংক্রান্ত অভিযোগ তোলা হয়েছে।

শুক্রবার ট্রাম্প এই দাবি করেছিলেন। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে ইরানের দূতাবাস জানায়, এই অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

দূতাবাসের দাবি, গত এক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিনটি ভারতের নাবিকবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতে তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। সেই ঘটনাগুলি আড়াল করতেই নতুন করে ড্রোন হামলা চালানোর মতো অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে।

এদিকে, ভারত সরকারও ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে ভারত সরকার।

চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মার্কিন দূতকে তলব করা হলো। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে একাধিক আত্মঘাতী ড্রোন পাঠিয়েছিল। মার্কিন নৌবাহিনী সব ড্রোন নষ্ট করেছে বলে জানানো হয়েছে। সেন্টকমের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বর্তমানে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রয়েছে।

সেন্টকম আরও জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ কার্যকর রাখতে তারা ১৩৯টি বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প পথে পাঠিয়েছে।

এই বিধিনিষেধ অমান্যের অভিযোগে নয়টি জাহাজকে অচল করা হয়েছে। গত সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের জেরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ৮ জুন ২৪ জন ভারতীয় নাবিকসহ পালাউ-পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ মারিভেক্সকে মার্কিন বাহিনী অচল করে দেয়। যদিও সব নাবিক নিরাপদে উদ্ধার হন। এরপর ১০ জুন সেত্তেবেলো নামের আরেকটি জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। ১১ জুন জলবীর নামের তৃতীয় জাহাজও মার্কিন হামলার মুখে পড়ে।