ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একটি শান্তি চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে বলে জানিয়ে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবি তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করেছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিসর-সহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলি চুক্তির খসড়ার শর্তাবলীতে সম্মতি জানিয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফেও আলোচনার বিষয়টি অনুমোদিত হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সামরিক অভিযান এবং বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ওয়াশিংটন।

খুব শীঘ্রই চুক্তির স্থান ও সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তির খসড়া এখনো অনুমোদন করেনি ইরান। একইসঙ্গে তাসনিম নিউজ এজেন্সিও ট্রাম্পের ঘোষণাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, অতীতেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার এমন ঘোষণা দিয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই ধরনের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করছে তেহরানের সংবাদমাধ্যম।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি-সহ একাধিক স্থাপনায় হামলা চালায়। পরে ৮ এপ্রিল একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে শান্তি আলোচনা চললেও এতদিন কোনও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতাবস্থা ফিরবে, নাকি নতুন কোনও সংকটের সূচনা হবে— তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।