পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে ভবানীভবনে পৌঁছলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধে ৬ টার মধ্যে তাঁকে ভবানীভবনে সিআইডির সদর দফতরে হাজিরার কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ। সেই নির্দেশ মেনে তিনি নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগেই ভবানীভবনে উপস্থিত হন। সই জাল সংক্রান্ত একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় সিআইডি তাকে তলব করেছিল। এদিন তাঁর সঙ্গে আইনি পরামর্শের জন্য আইনজীবীরা ছিলেন এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও সঙ্গে এসেছিলেন, যদিও তাঁদের ভবানীভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ভবানীভবনে পৌঁছানোর পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রেজিস্ট্রি খাতায় নিজের নাম নথিভুক্ত করেন। জানা গেছে, সিআইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করবেন। উল্লেখ্য, এই একই মামলায় এর আগে সিআইডি অভিষেককে মোট তিনবার তলব করেছিল, কিন্তু প্রতিবারই তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন, যেখানে বিচারপতি কৌশিক চন্দ তাঁকে ২১ দিনের জন্য রক্ষাকবচ প্রদান করেন। একইসঙ্গে হাইকোর্ট তাঁকে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তাও দেয়।

এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা চোর স্লোগান দেয়। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি ভবানীভবনে না গিয়ে নিজের কালীঘাটের বাসভবনে যান। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট অতিবাহিত করার পর তিনি ভবানীভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আদালতের শেষ নির্দেশ অনুযায়ী আজ সন্ধে ৬ টার মধ্যেই সিআইডি দফতরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজির হতে হতো, যা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। এদিকে, তৃণমূলের বহু সমর্থক এদিন ভবানীভবনের সামনে ভিড় জমান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ভবানীভবন চত্বরে পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।