পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় হারের জন্য দলের অধিকাংশ নেতাই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। এই অভিযোগ তুলে দলের একটি বড় অংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় অভিষেকের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবারের এই সাংসদের ঔদ্ধত্যে বিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর আইনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
কল্যাণের পুত্র শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ যে সমস্ত জুনিয়র আইনজীবীরা এতদিন অভিষেকের মামলা পরিচালনা করছিলেন, তাঁরাও সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রবীণ এই আইনজীবীর অভিযোগ, একজন আইনজীবীর সঙ্গে যে ধরনের পেশাদার আচরণ করা উচিত ছিল, অভিষেক তা করেননি। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকবেন, তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সরাসরি বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, মমতাদিকে এখন বেছে নিতে হবে যে দলে কে থাকবে, তিনি নিজে নাকি অভিষেক।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য যে, সই জাল সংক্রান্ত মামলাটি এতদিন অভিষেকের হয়ে লড়ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই মামলা থেকেই তিনি, তাঁর পুত্র এবং অন্যান্য জুনিয়র আইনজীবীরা নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন, ওর জন্যই দলটা শেষ হওয়ার পথে, তারপরেও ওর উদ্ধত ভাব বিন্দুমাত্র কমেনি। সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে কিছুদিন আগেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানালেও তাতে কোনো সুফল মেলেনি। মঙ্গলবার তৃতীয়বারের মতো সিআইডি হাজিরা এড়ানোর পর যুবরাজ বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ, তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এয়ারপোর্ট অথরিটির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা।আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে বুধবার অভিষেকের হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তাঁর সওয়াল করার কথা ছিল, কিন্তু সকালে হঠাৎ জানা যায়, মামলা থেকে সরে গিয়েছেন তিনি। তাঁর বদলে এই মামলায় এখন লড়বেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য।
এদিনই হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে আজ সন্ধ্যে ৬ টার মধ্যে অভিষেককে সিআইডির দফতরে হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু কেন এভাবে অভিষেকের ওপর চটলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? এবিষয়ে সাংসদ বলেন, কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়েছে জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। এটা শুনেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর নেই। ওর এই উদ্ধত আচরণ আমি কোনোভাবেই মেনে নেব না।আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে কল্যাণের সাফ কথা, আমায় ডাস্টবিনের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। পিটিশন ফাইল হচ্ছে কিন্তু আমাকে জানানো হচ্ছে না। এখানে কাজ করা আমার পক্ষে অসম্ভব। দিদির সঙ্গে ওঁর রক্তের সম্পর্ক, কিন্তু আমাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নেই, দীর্ঘ বছর ধরে আমরা দিদির পাশে থেকে লড়াই করেছি।
আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান। এপ্রসঙ্গে কল্যাণের পুত্র শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একজন আইনজীবীর সঙ্গে যে আচরণ করা দরকার তা করা হয়নি। আমি আইনজীবী হিসেবে অপমানিত হতে রাজি নই। তাই ওনার মামলা আমি আর লড়ব না। প্রসঙ্গত, পালাবদলের পর থেকেই দলের অধিকাংশ নেতাই অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরাসরি নাম না নিলেও আইপ্যাককে নিশানা করে আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিঁধেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দলে হাতে গোনা কয়েকজন নেতা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কল্যাণ। কিন্তু অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।