পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দলের অন্দরে এবং বাইরে ক্রমাগত চাপের মুখে এবার লোকসভার বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড হলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নারীবিদ্বেষী মন্তব্য এবং মহিলা সাংসদদের অপমান করার অভিযোগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁকে চলতি বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য সাসপেন্ড করেছেন। এই ঘটনায় স্বভাবতই প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে কালীঘাট তৃণমূল শিবির।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, বুধবার লোকসভার অধিবেশন শুরু হতেই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির অর্থাৎ এনসিপিআই-এর সাংসদদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, শতাব্দী রায় এবং মিতালী বাগ-সহ অন্যান্য বিদ্রোহী সাংসদদের 'দলবদলু' বলে কটাক্ষ করেন তিনি, এমনকী দলবদলের নেপথ্যে থাকা ভুপেন্দ্র যাদবকেও আক্রমণ করেন। এরপরেই শতাব্দী রায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং অপমানের অভিযোগ তুলে স্পিকারের দ্বারস্থ হন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই স্পিকার তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে শ্রীরামপুরের সাংসদ জানান, প্রয়োজনে তিনি বাইরে থাকবেন, কিন্তু বেইমানদের কাছে মাথা নত করবেন না।আরও পড়ুন:
এর ঠিক এক দিন আগেই ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তব্য দীর্ঘ হওয়া নিয়ে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সভামঞ্চ ছেড়েছিলেন কল্যাণ। বুধবার সকাল থেকেই দলের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছিল। এরই মধ্যে লোকসভা থেকে তাঁর এই সাসপেনশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে লোকসভায় কালীঘাট শিবিরের মাত্র আটজন সাংসদ অবশিষ্ট রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মুখ্য সচেতক এবং অন্যতম প্রধান বক্তা। তাঁর অনুপস্থিতি সংসদে দলের চাপ আরও বাড়াবে বলেই ধারণা।
আরও পড়ুন:
এদিকে, এই সাসপেনশনের কড়া নিন্দা করে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, বেইমানদের রক্ষকরাই সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেছেন, তা একেবারেই সঠিক।