পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভবানীপুর কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত জানান, তাঁর দাদা বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন। এরপরেই মামলার শুনানিতে কারও আপত্তি আছে কিনা জানতে চান বিচারপতি। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে মামলায় সওয়াল করেন আইনজীবী ও তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিচারপতির এমন মন্তব্যের পর জানিয়ে দেন, শুনানিতে কোনও সমস্যা নেই। বিচারপতি আরও জানান, মামলার গভীরে যাওয়ার আগে তিনি এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে চান যাতে স্বচ্ছ থাকে।

বিচারপতির এই উদ্যোগের প্রসংশা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, বিচারপতির প্রতি তাঁর এবং তাঁর মক্কেলের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ও আস্থা বর্তমান। অতীতেও এই আদালতে মামলা লড়েছেন এবং কখনও জিতেছেন আবার কখনও হেরেছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতিকে অত্যন্ত ভদ্র মানুষ হিসেবে অভিহিত করে মন্তব্য করেন। এরপরেই মামলার শুনানি শুরু করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। পরে গণনা কেন্দ্রের সমস্ত নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত।
একইসঙ্গে ভোটগ্রহণে ব্যবহৃত সমস্ত ইভিএম ও ভোটার যাচাইকরণ যন্ত্রও অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও তথ্য বা রেকর্ড মুছে ফেলা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেন বিচারপতি। মামলার পরবর্তী শুনানি দু’মাস পরে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুনানিতে ভবানীপুর কেন্দ্রের পরাজিত প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি দাবি করেন, ভোট গণনার প্রথম বারো দফা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

তাঁর অভিযোগ, এরপর তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতিনিধিদের গণনা কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তারপর থেকেই ফলাফলের চিত্র বদলে যায়।

আইনজীবীর বক্তব্যে আরও উঠে আসে গণনা প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী এক আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। তিনি আদালতে দাবি করেন, ওই আধিকারিক পূর্বে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে তাঁকে ভবানীপুরের গণনা প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে কর্মরত বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। সেই কারণেই গোটা বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করা হয়।