পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর এবার এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই শনিবার সকালে ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার ওপর আস্থা না রেখে সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার দাবি তুলেছেন বাংলার এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত।
দেশের কোটি কোটি ছাত্র ও যুব সমাজের জলন্ত সমস্যাগুলির ক্ষেত্রেও কেন্দ্র এভাবেই নীরব থাকে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।আরও পড়ুন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করাই দস্তুর, এভাবে তাঁদের এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
সরকারি হাসপাতালে ওয়াংচুকের সঠিক চিকিৎসা হওয়া নিয়ে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি প্রস্তাব দেন, প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ অর্থ সংগ্রহ করে তাঁর চিকিৎসার খরচ চালাবে, তাও তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি বলেন, যে সরকার বিরুদ্ধ মতকে গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে না দেখে উল্টে হুমকি মনে করে, তাদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের রাজনৈতিক জীবনের এক বড় অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে অনশন আন্দোলনের সঙ্গে। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তাঁর টানা ২৬ দিনের ঐতিহাসিক অনশন তৎকালীন জাতীয় রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের পথকে প্রশস্ত করেছিল। সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন চলাকালীনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোনে যোগাযোগ করে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছিলেন। এবার ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে পাঠানোর পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি।