পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভ এবার এক নতুন মাত্রা নিল। আন্দোলনের ২১তম দিনে দাঁড়িয়ে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস। চিঠিতে তিনি দেশের মানুষের স্বাভাবিক নীরবতা এবং অন্যের যন্ত্রণার প্রতি উদাসীনতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

একই সঙ্গে, নিট প্রশ্নফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সৌরভ দাস লিখেছেন, "আমরা আজ যদি সোচ্চার না হতে পারি, তবে ইতিহাস এই প্রশ্ন করবে না যে সোনম ওয়াংচুক ভারতের জন্য কী করেছিলেন। ইতিহাস প্রশ্ন করবে, যখন সোনম ওয়াংচুকের ভারতকে প্রয়োজন ছিল, তখন ভারত কী করছিল?"

রেমন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সৌরভ দাস বলেন, "এই মানুষটি চাইলে সম্মান ও আরামের জীবন বেছে নিতে পারতেন।

কিন্তু তিনি আজ আমাদের সন্তানদের, দেশের যুবসমাজের এবং সর্বোপরি দেশের ভবিষ্যতের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছেন। একটি দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার বলি হওয়া সেই সব মৃত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পেতেই তিনি অনশনে বসেছেন।"

ভারতের একজন কৃতি সন্তানকে নিজের দেশের সরকারের কাছে নিজের কথা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেন আমরণ অনশন করতে হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিজেপি মুখপাত্র। দেশবাসীর মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "পথ চলতে চলতে কোথাও যেন আমরা অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছি।

যেখানে ক্ষোভ ফেটে পড়ার কথা ছিল, সেখানে আমরা নীরবতাকে মেনে নিয়েছি। যেখানে সহানুভূতির প্রয়োজন ছিল, সেখানে আমরা উদাসীন হয়ে গেছি। আমরা কেবল যন্ত্রণার দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে আছি এবং ভাবছি অন্য কেউ এসে আমাদের হয়ে কথা বলবে বা লড়বে।"

ওয়াংচুকের মতো একজন সৎ মানুষকে এই পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে সৌরভ বলেন, "আমরা আপনার মতো একজন মানুষকে ব্যর্থ করে দিচ্ছি, কারণ আমরা সহানুভূতির চেয়ে অহংকারকে এবং বিবেকের চেয়ে উদাসীনতাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছি।" খোলা চিঠির শেষে সৌরভ দাস ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০ জুলাই সিজেপি-র পক্ষ থেকে ‘সংসদ ভবন অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে। ওয়াংচুকের প্রাণ বাঁচাতে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে এই ২০ জুলাইয়ের মার্চই তাঁদের "শেষ চেষ্টা" হতে চলেছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।