পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। রবিবার তিনি ঘোষণা করেন, পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ছাত্র-যুব আন্দোলন এবার দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বিশাল বিক্ষোভের একদিন পর মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

দীপকে বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না। যন্তর মন্তরের প্রতিবাদে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। এই আন্দোলন শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

এখন আমরা এই আন্দোলনকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।"

মূলত নীট, সিবিএসই, সিইউইটি, এসএসসি-সহ বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস, তথ্য বিভ্রাট ও অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আত্মপ্রকাশ করেছিল সিজেপি। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেই ভার্চুয়াল ক্ষোভই শনিবার যন্তর মন্তরে বাস্তবের মাটিতে বৃহৎ গণসমাবেশে রূপ নেয়। প্রতিবাদ মঞ্চে শত শত আন্দোলনকারী হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, বারবার পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় দেশের কোটি কোটি পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আন্দোলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারীদের পরা আরশোলার মুখোশ। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই মুখোশ শিক্ষা ব্যবস্থার পদ্ধতিগত ব্যর্থতা, দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিরোধের প্রতীক।

বিক্ষোভ শেষে সিজেপির পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, কেন্দ্র সরকারকে তাঁরা এক সপ্তাহ সময় দিচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে হয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে হবে,  নয়তো তাঁকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে সিজেপি দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে এবং বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করবে। এদিনও সেই কথা আরও একবার স্পষ্ট করলেন অভিজিৎ দীপকে।

 

উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরের শনিবারের সমাবেশে যোগ দিতে বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে আসেন অভিজিৎ দীপকে। প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর সময় তাঁর হাতে ছিল ভারতরত্ন ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলে ভয় পেলে চলবে না। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার।

ইতিমধ্যেই এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমর্থন অর্জন করেছে। যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছিল জলবায়ু আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনম ওয়াংচুককে। এছাড়াও, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সিজেপিকে সমর্থন জানিয়েছেন।