পুবের কলম প্রতিবেদক, নয়াদিল্লিঃ নিট-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আজ শনিবার পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচী রয়েছে সিজেপির। তার আগেই এই কর্মসূচী রুখতে দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে একটি জস্বারথ মামলা। শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে সেই মামলার শুনান্রি আর্জি খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। সেভ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের তরফে দায়ের জনস্বার্থ মামলার আবেদনে বিক্ষোভের জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা কড়া হয়েছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয় আদালতের কাছে।
আরও পড়ুন:
এনিয়ে বিচারপতি সৌরভ ব্যানার্জী এবং বিচারপতি অমিত শর্মা-র অবকাশকালীন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন মামলাকারী।
আদালত জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকার করেছে। আবেদনকারীর দাবি, "ককরোচ জনতা পার্টি" সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যাপক প্রচারা চালিয়ে ৬ জুন যন্তর মন্তর এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীকে একত্রিত হতে পারে। এরফলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি।আরও পড়ুন:
এর পাশপাশি ককরোচ জনতা পার্টির কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে উস্কানিমূলক বলেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। আবেদনকারীর বক্তব্য, এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু অনলাইন পোস্টে উস্কানিমূলক পোস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে আহ্বান এবং সরকারি পরিকাঠামো ব্যাহত করার ইঙ্গিত রয়েছে। ফলে অনিয়ন্ত্রিত জমায়েত হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ।
সেভ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের দাবি, তারা ৪ জুন দিল্লি পুলিশের কমিশনারের কাছে একটি আবেদন জমা দিয়ে সম্ভাব্য ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও পর্যাপ্ত এবিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে যাতে দিল্লি পুলিশ ও পুরসভা কর্তৃপক্ষকে ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রয়োজনে জমায়েত সীমিত অন্য জায়গায় স্থানান্তরের আবেদনও জানানো হয়েছে। পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিষেবা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এর আগের দিনই সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এনিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, ৬ জুনের কর্মসূচী ঘিরে সাম্ভব্য বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে যে জল্পনা কল্পনা চলছিল তা খন্ডন করে দিয়েছিলেন। এনিয়ে গুজব রটানো হচ্ছে বলে দাবি করেন। তিনি আইন মেনে শান্তিপূর্ণ ও গনতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর আবেদন জানান। প্রসঙ্গত, সিজেপি আত্মপ্রকাশ করেছিল গত মাসে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে জন্ম হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির। তারপরেই অনলাইন ভিত্তিক এই যুব আন্দোলন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। কয়েকদিনের মধ্যেই তরুণ তরুণীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে এই আন্দোলন। আর এবার আজ শিনিবার ভার্চুয়াল জগত ছেড়ে সরাসরি বাস্তবের ময়দানে আন্দোলনে নামছে সিজেপি।