পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইন্টারনেটের একটি সাধারণ রসিকতা বা মিম যে কত দ্রুত দেশের অন্যতম বৃহত্তম অনলাইন আন্দোলনে রূপ নিতে পারে, তার এক নজিরবিহীন উদাহরণ 'ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দেশের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দল সিজেপি মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে জনপ্রিয়তায় বিজেপিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। ফেসবুক-মেটার অধীনস্থ প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে সিজেপি-র ফলোয়ার সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১০.১ মিলিয়নের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্স-এও তাদের অনুগামীর সংখ্যা ১,৭৬,৬০০ পেরিয়ে গিয়েছে।

নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এটিকে একটি সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক বা রসাত্মক প্রজেক্ট বলে উল্লেখ করলেও, এর অবিশ্বাস্য ও উল্কাবেগী বৃদ্ধি দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালেই সিজেপি-র ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলটি ফলোয়ার সংখ্যার নিরিখে বিজেপির অফিশিয়াল হ্যান্ডেলকে (৮.৬ মিলিয়ন ফলোয়ার) টপকে যায়। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার পর বিজেপির ‘বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল’ হওয়ার দাবিকে কটাক্ষ করে সিজেপি তাদের ইনস্টাগ্রামে লেখে, “ওরা বলেছিল বিশ্বের বৃহত্তম দল!” সাথে তারা আরও যোগ করে, “এই জায়গা ছুঁতে আমাদের মাত্র চার দিন সময় লেগেছে। যুবসমাজের ক্ষমতাকে কখনই ছোট করে দেখবেন না।”

দলটির ইনস্টাগ্রাম বায়ো-তে এটিকে বর্ণনা করা হয়েছে— “যুবকদের দ্বারা, যুবকদের জন্য, যুবকদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট।

” আর সিজেপি-র ওয়েবসাইটে নিজেদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে। ৩০ বছর বয়সী প্রবাসী ভারতীয় ছাত্র অভিজিৎ দিপকে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা। দলের লক্ষ্য বা মিশন স্টেটমেন্টে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বলা হয়েছে, “সেই সমস্ত তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি দল তৈরি করা, যাদের প্রতিনিয়ত অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা এবং সম্প্রতি ‘আরশোলা’ বলে ডাক দেওয়া হয়েছে। ব্যস, এটাই আমাদের মিশন। বাকি সবটাই ব্যঙ্গাত্মক বা রসিকতা।”