পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভোট মিটতেই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও হিংসার অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। কোথাও বিরোধী শিবিরের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে, আবার কোথাও আক্রান্ত হচ্ছেন শাসকদল বিজেপির সমর্থকেরা। এই আবহেই বহু বছর আগের এক ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি সামনে এনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বীরভূমের ইলামবাজারে এক বিজেপি কর্মীর নৃশংস হত্যার ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সেই সময় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ আধিকারিককে এখনও খুঁজছেন তিনি।

এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মুখ খোলেন শমীক।

তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তাঁর কথায়,  বিজেপির বহু কর্মী প্রাণ হারাতেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষও বিজেপিকে সমর্থন করেন,  কিন্তু অতীতে তাঁদের উপর হওয়া হামলা ও অত্যাচারের কারণে অনেককেই প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হয়নি।

এই প্রসঙ্গেই তিনি ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের পর বীরভূমের ইলামবাজারে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস খুনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালের ৭ জুন শেখ রহিম নামে এক বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছিল।

তিনি ইলামবাজার থানার ঘুড়িষা পঞ্চায়েত এলাকার কানুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার পর সেখানে গিয়েছিলেন শমীক নিজেও। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শমীক জানান, নিহতের পরিবারের উপরও চরম নির্যাতন চলেছিল। তিনি জানান , ওই বিজেপি কর্মীর দুই মেয়েকে নগ্ন করে রাস্তা দিয়ে হাঁটানো হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের লজ্জা নিবারণ করতে তাঁরা গলা পর্যন্ত শরীর ডুবিয়ে পুকুরে বসেছিল। আর তাঁদের মাকেও বিবস্ত্র করে দেওয়া হয়েছিল। শমীকের দাবি, নিহতের পরিবারের সদস্যদের সামনে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং পুরো ঘটনার সময় এক পুলিশ আধিকারিক উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি। ওই আধিকারিকের পদবি ছিল পান্ডে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শমীক বলেন, "আমি ওই অফিসারকে খুঁজছি। রিপোর্টে ওই অফিয়ার লিখেছিল  ওভারপাওয়ার্ড।"সাক্ষাৎকারে বিজেপির অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শমীক আরও বলেন, বিজেপি হিন্দু মুসলিমকে ভেদাভেদ করে না।  যারা ভারতকে নিজের দেশ মনে করে তাদের সঙ্গে বিজেপি আছে।