পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস এবং ভোজ্য তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে জল্পনা শুরু হয়— তবে কি জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে? সেই আবহে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ারও কারণ নেই।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পেট্রল, ডিজ়েল এবং এলপিজি মজুত রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব যাতে দেশের জ্বালানি সরবরাহে না পড়ে, তার জন্য আগাম পদক্ষেপও করা হয়েছে।


পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এক যুগ্মসচিব বলেন, “ভারতে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। অযথা আতঙ্কিত হয়ে আগেভাগে জ্বালানি মজুত করার প্রয়োজন নেই।” তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর সংযম বার্তাকে সঙ্কটের ইঙ্গিত হিসেবে নয়, বরং শক্তি সঞ্চয় এবং বিদেশি মুদ্রা ব্যয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা উচিত।
সরকারি সূত্রের দাবি, ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি হলেও বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে কেন্দ্র।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল 
জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারত বিভিন্ন দেশ থেকে শক্তি আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ভারত শান্তি ও আলোচনার পক্ষেই রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্দর ও নৌপরিবহণ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের একাধিক জাহাজ নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী পার হয়েছে। আরও কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলছে।
উল্লেখ্য, রবিবার হায়দরাবাদে এক সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, “পেট্রল, ডিজ়েল, গ্যাসের মতো জ্বালানি অত্যন্ত সংযমের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। যতটা প্রয়োজন, ততটাই ব্যবহার করা উচিত। এতে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও কমবে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট বার্তা— দেশে জ্বালানির জোগানে কোনও সঙ্কট নেই এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই।