পুবের কলম, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার (LoP) গুরুদায়িত্ব সামলাবেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল সংসদীয় দল এ দিন সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর নাম ঘোষণা করেছে। বালিনগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৬১,৪৭৬ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী শতরূপা চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি।

নির্বাচনে তৃণমূল পরাজিত হলেও, ব্যক্তিগতভাবে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম এবং একমাত্র বিধায়ক হিসেবে টানা ১০ বার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলেন। ১৯৯১ সালে বারুইপুর কেন্দ্র থেকে তাঁর জয়যাত্রার শুরু। এরপর রাসবিহারী, ভবানীপুর, খড়দহ এবং সবশেষে বালিনগঞ্জ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন।

১৯৪৪ সালে জন্ম নেওয়া শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সেনাপতি।

১৯৯৮ সালে যখন তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয়, তখন তিনি ছিলেন দল গঠনের অন্যতম কারিগর। বস্তুত, তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতা রাজ্যের প্রথম বিধায়ক হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে নথিবদ্ধ হয়ে আছে। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি কলকাতা পুরসভার কর্মী ছিলেন। তৎকালীন মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল দীর্ঘদিনের।
ব্যক্তিগত জীবনে বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নেওয়া এই নেতা রাজনীতির ময়দানেও আজীবন লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। বিশেষ করে শ্রমিক আন্দোলনের সাথে তাঁর যোগাযোগ অত্যন্ত নিবিড়। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি (INTTUC)-র প্রতিষ্ঠাতা তিনি এবং বর্তমানে কলকাতা অটো রিকশা অপারেটরস ইউনিয়নের সভাপতির পদেও আসীন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে একাধিকবার দলীয় কোন্দল ও উপেক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে মন্ত্রিত্বের বদলে 'চিফ হুইপ' করা হলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন, কারণ দলের অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ নেতা অরূপ বিশ্বাস তখন অনেক বেশি প্রভাবশালী পদ পেয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি বিদ্যুৎ, কৃষি এবং সংসদীয় বিষয়ক দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন।