পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং তামিলাগা ভেট্রি কাজাঘাম (টিভিকে) প্রধান বিজয় তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে 'বন্দে মাতরম'-এর সম্পূর্ণ ৬টি স্তবক গাওয়ার ব্যবস্থা করে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিজেপি-র চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাধারণত অফিসিয়াল অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়া হয়। কিন্তু, ১০ মে ২০২৬-এ বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (জানুয়ারি ২০২৬) নির্দেশিকা মেনে সম্পূর্ণ ৬টি স্তবক গাওয়া হয়। বিজেপি বন্দে মাতরমের প্রচার ও প্রসারে জোর দিয়ে থাকে। কিন্তু পশ্চিমবাংলার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক শপথ অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ সংস্করণটি গাওয়া হয়নি, যা টিভিকি বিজয় অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়েছে।
বাংলা ও তামিলনাড়ুসহ চারটি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন'-এর সমমর্যাদা দিয়ে জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-কে স্বীকৃতি প্রদানের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে, তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্দেশিকাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, রবীন্দ্রনাথ রচিত জাতীয় সঙ্গীতটি 'বন্দে মাতরম'-এর পরে বাজানো উচিত নয়।
গত ২৮ জানুয়ারি জারি করা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছিল যে, মূল 'বন্দে মাতরম'-এর অন্তর্ভুক্ত ছয়টি স্তবকই সরকারি অনুষ্ঠানে গাইতে হবে। এর মাধ্যমে ১৯৫০ সালে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত মাত্র দুটি স্তবক গাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রথা থেকে সরে আসা হল।এই সিদ্ধান্তটি কংগ্রেসেরও মনঃপুত হয়নি; দেশের এই প্রাচীনতম দলটি মন্তব্য করে যে, এই পদক্ষেপটি ১৯৩৭ সালের অধিবেশনে গৃহীত একটি সিদ্ধান্তের পরিপন্থী—যে সিদ্ধান্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শক্রমে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষের ভাবাবেগের প্রতি সংবেদনশীল থাকার কথা বলা হয়েছিল।
এই বিতর্কের আবহে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি তাঁর কাছে "গভীরভাবে কৌতুককর" মনে হয়েছে—"যারা আজ নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক বলে দাবি করছেন, তাঁরা নিজেরাই কখনও 'বন্দে মাতরম' গানটি গাননি..."
অন্যদিকে, বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, ১৯৩৭ সালে 'বন্দে মাতরম'-এর একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ গ্রহণ করার মাধ্যমে কংগ্রেস আসলে "একটি সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাকে তোষণ" করেছিল।