পুবের কলম, জলপাইগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার তুঙ্গে। বুধবার ময়নাগুড়ির জনসভা থেকে সুর চড়িয়ে বিজেপিকে ‘অ্যান্টি বেঙ্গল’ বা বাংলা-বিরোধী বলে তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় ছিল নোটবন্দি, আধার কার্ড বিভ্রাট এবং সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিজেপির লোগো থাকার বিতর্ক।
 
কেরালার একটি ঘটনার রেশ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে বলেন, "কখনও শুনেছেন নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিজেপির চিহ্ন থাকে? সেন্ট্রাল ফোর্স বিজেপির ফ্ল্যাগ নিয়ে ঘুরছে।

লজ্জা করে না? বিজেপির তো গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত। এই লজ্জা কোথায় ঢাকবেন?" মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর হাত থেকে সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষ তাঁর পাশে আছেন। তিনি বিজেপিকে একটি ‘ভ্যানিশ পার্টি’ বা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার দল হিসেবে অভিহিত করেন।

 
রাজবংশী সম্প্রদায় এবং মহিলাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সরব হন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি মানুষকে বারেবারে লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করছে। তাঁর কথায়, নোটবন্দি থেকে আধার— সবক্ষেত্রেই মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে যে, তাঁরা এ দেশের নাগরিক কি না। উত্তরবঙ্গের বহু রাজবংশী মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
 
রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ের সময়সীমা নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী।
তিনি জানান, এখন দুটি গ্যাসের সিলিন্ডার বুক করতে চাইলে ৩৫ দিন সময় লাগছে। "গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে,"— এই ভঙ্গিতে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মানুষ খেতে পাবে না এবং দেশ আবার পুরনো দিনে ফিরে যাবে। এদিন ৪ মে-র ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় মমতার গলায়। স্লোগান তুলে তিনি বলেন, "৪ তারিখে কাউন্টিং হবে। ১-২-৩-৪, বিজেপির হবে হার। ১-২-৩-৪, তৃণমূল জিতবে আবার।"