পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ডিলিমিটেশন বিলকে সামনে রেখে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে নির্বাচনী সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে হার নিশ্চিত বুঝেই দেশকে টুকরো টুকরো করার চক্রান্ত করছে কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার।

মমতার দাবি, বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি আসন থাকলেও কেন্দ্র তা বাড়িয়ে ৮৫০ করতে চাইছে। তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের আড়ালে ডিলিমিটেশন বিল এনে রাজনৈতিক মানচিত্র বদলের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একদিন দেখবেন কোচবিহার নেই, উত্তর দিনাজপুর নেই, দার্জিলিং-শিলিগুড়িও হারিয়ে গিয়েছে।”

তৃণমূল নেত্রীর আশঙ্কা, এই পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বাংলার রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব খর্ব করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল চুপ করে বসে থাকবে না। তাঁর কথায়, “বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লড়াই করেছিলেন, বাংলার মানুষও তাঁর সঙ্গে ছিল।

মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে আমাদের লড়াইও চলবে।” এখানে তিনি উল্লেখ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের কথা।

এদিন মমতা আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মাথা নত না করায় বাংলার ওপর নানা রকম প্রশাসনিক চাপ ও অত্যাচার চালানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের উপর জুলুম চলছে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবেই।

” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা সামনাসামনি লড়তে পারে না, তাই ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করছে।”

ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বাংলার পুলিশের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বাইরের বাহিনী এনে ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-র নাম করে বলেন, “অসম থেকে লোক এনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে ভোট করানোর ফন্দি হচ্ছে, কিন্তু বাংলার মানুষ তা হতে দেবে না।”

মমতার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ডিলিমিটেশন বিল ও কেন্দ্রের নির্বাচনী ভূমিকা—এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখেই নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে তৃণমূল। তাঁর বার্তা, বাংলার অধিকার রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চলবে।