পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের রাজধানীতে সাতসকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগর এলাকার ‘মিকাসা ইন’ নামক একটি হোটেলে এই বিপর্যয়টি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, প্রাণহানি এড়ানো যায়নি।
আরও পড়ুন:
দমকল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ পাঁচতলা হোটেল ভবনের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ তলে প্রথম আগুন লাগে।
খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার এবং একটি কুইক-রেসপন্স ভেহিকেলসহ দমকলের বেশ কয়েকটি ইউনিট পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই পাঁচতলা ভবনে আনুমানিক ৪০ জন আবাসিক ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, হাউজ খাস সংলগ্ন হাউজ রানি এলাকার অত্যন্ত সংকীর্ণ গলির ভেতরে অবস্থিত এই হোটেলটির বেসমেন্টে একটি রেস্তোরাঁ ছিল। হোটেলটিতে মোট ২৫টির মতো ঘর ছিল। ঘটনার সময় সেখানে যে ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
তাঁরা মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন এবং ঘটনার সময় তাঁদের অনেকেই ঘুমাচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বহুতল ভবনটি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকায় প্রাণ বাঁচাতে বেশ কয়েকজন আবাসিক ওপর থেকে নিচে ঝাঁপ দিচ্ছেন।আরও পড়ুন:
হোটেলের বেসমেন্টে থাকা রেস্তোরাঁটির শেফ কেসর সিং নেগি এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, সকাল ৮টা নাগাদ তিনি যখন একটি ইলেকট্রিক স্টোভ বা বৈদ্যুতিক উনুন চালু করার চেষ্টা করেন, তখন হঠাৎ করেই আগুনের শিখা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন যে আগুন ইতিমধ্যেই পুরো হোটেলকে গ্রাস করে নিয়েছে। আতঙ্কিত কণ্ঠে নেগি বলেন, “আমি স্টোভ অন করতেই আগুন ছিটকে আসে। বিপদ বুঝতে পেরে আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার সহকারীকে চিৎকার করে বলি যে হোটেলে আগুন লেগে গেছে। এরপর আমি যখন কোনওমতে ঘরের বাইরে আসি, তখন দেখি পুরো হোটেলটাই আগুনে জ্বলছে।”