পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কদিন আগেই যে যোশীমঠ ছিল পর্যটকদেড় ভিড়, এখন সেই যোশীমঠের নামই মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রতি বছর আড়াই ইঞ্চি করে বসে যাচ্ছে যোশীমঠের মাটি। এই পূণ্যভূমির মাটির আলগা হতে শুরু করেছিল তিন বছর আগেই। বাড়ির বাইরে লাল রঙের ক্রশ দিয়ে চিহ্ন দিয়ে প্রশাসন জানান দিচ্ছে এই বাড়ি বিপজ্জনক। স্থানীয় মানুষ আগেই জানিয়েছিল, মনে হচ্ছে একটি টাইম বোমের ওপরে বসে আছি। যেকোনও সময়ে ধসে পড়তে পারে। রাস্তা, বাড়ি, মন্দির, হোটেল,যত্রতত্র ধস, আর শুধুই বড়বড় ফাটলে দেবভূমিতে আতঙ্ক ক্রমশই বেড়ে চলেছে।
আরও পড়ুন:
দিনকয়েক আগেই যোশীমঠকে বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করে বিজেপি-শাসিত উত্তরাখণ্ড সরকার। এই পরিস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ৭টি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি বিচার করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যোশীমঠের হোটেলগুলিকে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা যে ক্ষতিপূরণের দাবি করেছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত পরিবারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের দেড় লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই যোশীমঠের ভূমিধস ও ফাটলের জেরে ঘরছাড়া হয়েছেন হাজার হাজার পরিবার। মঙ্গলবার থেকে উত্তরাখণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও হোটেল ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু রাতভর স্থানীয় বাসিন্দা, হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের জেরে সেই কাজ করা হয়নি।আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে, বিপদ-আশঙ্কার উপর ভিত্তি করে যোশীমঠকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। ডেঞ্জার, বাফার এবং কমপ্লিটলি সেফ। প্রশাসনের তরফে বিপজ্জনক তালিকাভুক্ত অঞ্চলকে দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সামনে এসেছে দেহরাদুনের একটি সরকারি সংস্থা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং-এর সমীক্ষা রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকেই যোশীমঠ ও তার আশপাশের এলাকায় ফাটল ধরতে শুরু করেছিল।
হিমালয়ের কোলে এই ছোট্ট জনপদে এখন বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৩। গতকাল দুটি হোটেল ভাঙার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। কিন্তু স্থানীয়দের বিক্ষোভে আটকে যায় ভাঙার কাজ। সোমবার উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানান, সবরকম ভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, যোশীমঠকে বাঁচাতে একত্রিত হতে হবে। সোমবার সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল যোশীমঠের বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। এদিকে বিক্ষোভরত মানুষের অভিযোগ, তপোবন-বিষ্ণুগড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্যই এই ভূমিধস। কারণ পাহাড়ের বুকে বেআইনিভাবে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার ফলেই এসেছে এই বিপর্যয়।