চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ফের তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। এই ঘটনায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এবং আইআরজিসির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে এক বিবৃতিতে ইরানের গার্ড বাহিনী জানায়, মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালির স্পর্শকাতর জলসীমায় অবস্থানরত একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন বিমানবাহিনী হামলা চালায়।
এতে জাহাজটির ইঞ্জিন অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
এর কিছুক্ষণ পর কেশম দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আইআরজিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ টাওয়ারেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তেহরানের। এই দুই হামলার জবাব হিসেবেই কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
আরও পড়ুন:
বিবৃতিতে ইরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের ‘কঠোর ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়া হবে।
একইসঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে যেসব আঞ্চলিক ঘাঁটি বা বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে, তাদেরও পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
তবে ইরানের এই দাবির বিপরীতে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির দিকে ছোড়া দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ব্যর্থ হয়। এছাড়া বাহরাইনের দিকে ছোড়া আরও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে তারা।
আরও পড়ুন:
এদিকে আইআরজিসির বিবৃতি প্রকাশের কিছুক্ষণ আগেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি কেশম দ্বীপের সুজা ও মাসেন এলাকার কাছে একাধিক বিস্ফোরণের খবর দেয়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বিস্ফোরণের পর কয়েকটি স্থানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের কোনো পথ এখনও তৈরি হয়নি। ফলে নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেল।