পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে এক দলিত ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় প্রায় ১৯ বছর পর বড় রায় দিল আদালত। উত্তর প্রদেশের আলিগড়ের বিশেষ তফসিলি জাতি ও উপজাতি আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে আর্থিক জরিমানাও করেছে আদালত।
আরও পড়ুন:
মামলার বয়ান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির নাম বাবলু প্রসাদ। তাঁর বয়স ৬৫ বছর। ঈশানপুর গ্রামের বাসিন্দা তেজ সিংকে হত্যার ঘটনায় তাঁকে দোষী বলে ঘোষণা করেছে আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি। অভিযোগ, সেদিন বাবলু প্রসাদ তেজ সিংকে হাজিপুর গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে একটি সরকারি নলকূপের কাছে বসে দু’জনে মদ্যপান করেন। সেই সময় বাবলুর কাছে তেজ সিংয়ের পাওনা ৫০০ টাকা নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়।আরও পড়ুন:
ক্রমে সেই বচসা ভয়াবহ রূপ নেয়।
অভিযোগ, টাকার দাবি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই তেজ সিংকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত বাবলু সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। পরদিন সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তেজ সিংয়ের ছেলে মহেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরে তিনি তাঁর বাবার দেহ উদ্ধার করেন। এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর মামলাটি বিশেষ আদালতে ওঠে। শুনানির সময় একাধিক সাক্ষীর বয়ান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য পরীক্ষার প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়।আরও পড়ুন:
সরকার পক্ষ জানায়, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ বিচার করে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে হত্যার ঘটনায় বাবলু প্রসাদই দায়ী। বিচারক প্রতিভা সাক্সেনা রায় ঘোষণা করেন। ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির ওপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক পুরনো এই মামলায় আদালতের রায়ে মৃতের পরিবার অবশেষে বিচার পেল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।