পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ গুজরাটে পুলিশি হেফাজতে এক মুসলিম বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বছর সত্তরের জহির শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে অত্যাচার চালিয়েছে পুলিশ। তার জেরে জহিরের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গুজরাট হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন জহিরের পরিবাব। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলায় পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে হাইকোর্ট। হেফাজতে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে এফআইআর দায়ের করতে পুলিশের অনীহা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
আরও পড়ুন:
পরিবারের দাবি, মৃত্যুশয্যায় জহির জানিয়েছেন তাঁকে পুলিশ মারধর করেছিল। এমনকি পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মী ও অফিসারদের নামও তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন। এনিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জহিরের ছেলে তফিক শেখ। সোমবার সেই সংক্রান্ত আবেদনের শুনান্রি সময় বিচারপতি ডিএন রায় মন্তব্য করেন যে, পুলিশ বেছে বেছে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি এফআইআর দায়ের করতে অস্বীকার করতে পারে না। বিচারপতি মন্তব্য করেন, "তদন্ত করার ক্ষেত্রে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে পুলিশ বলবে, আমরা যা চাই সেটাই তদন্ত করব, কিন্তু এফআইআর দায়ের করব না।
" এর পালটা জবাবে পুলিশের পক্ষে আইনজীবী যুক্তি দেন যে, অভিযোগকারী তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। তিনি জানিয়েছেন, “বিএনএসএস-এর ১৯৬ ধারার অধীনে দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুর বিষয়ে একটি স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর ইতিমধ্যেই দায়ের করা হয়েছে। এরপরেই পুলিশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, "আপনারা যদি এফআইআর দায়ের না করেন, তাহলে তিনি কীভাবে সহযোগিতা করবেন? আপনারা কী তদন্ত করেন? আপনারা এফআইআর-এ করা অভিযোগগুলো তদন্ত করুন।" শুধু এখানেই থেমে থাকেননি বিচারপতি। পুলিশকে তিনি নিয়ম মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, "অভিযোগের বিষয়বস্তু জানার জন্য আপনাদের প্রথমে এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং তারপর তদন্ত করতে হবে।" বেঞ্চ পুলিশের এই আচরণকে একগুঁয়ে মনোভাব বলে মন্তব্য করেছেন।আরও পড়ুন:
কী ঘটেছিল?
আরও পড়ুন:
মামলার বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সুত্রপাত হয় গত ৫ মে।
ভেজালপুরের সোনল সিনেমা রোডের কাছে একটি অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে জুহাপুরার নেহা ফ্ল্যাটসের পেছনের একটি খোলা মাঠ থেকে প্রায় ৫২০ কিলোগ্রাম মাংস উদ্ধার করে। পুলিশের সন্দেহ ছিল সেগুলি গোমাংস ছিল। সেই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে তিনজন মুসলিম নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে জহির শেখ ও আরেক অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে গত ১৬ মে আটক করা হয়েছিল জহিরকে। ১৮ মে ভেজালপুর পুলিশ তাকে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার করে। এরপরেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে আহমেদাবাদের এসভিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর আগে তাঁর ছেলে হাসপাতালে তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন। পরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে যে, ডায়াবেটিস ও একাধিক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন জহির। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে তাঁকে মারধর করার জন্যই এই মৃত্যু ঘটেছে।আরও পড়ুন:
মৃতের ছেলে তফিক শেখ জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেও তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ এখনও তাঁদের অভিযোগ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করেনি। অথচ তদন্তের কথা বলে বারবার তাঁদের কাছে মোবাইল ফোন ও নানা প্রমাণপত্র চাওয়া হচ্ছে। তফিকের কথায়, অভিযোগ গ্রহণ না করেই তদন্তের নামে পরিবারের উপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁরা যখন মামলার শুনানির জন্য উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন, সেই সময় থানার বাইরে তাঁদের বিক্ষোভের জায়গাটিও পুলিশ সরিয়ে দেয়। যদিও আহমেদাবাদ পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের বক্তব্য, নিয়ম মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মৃতের পরিবার এখনও মরদেহ গ্রহণ করেনি। পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা মরদেহ নেবেন না। আগামী ২৮ মে মামলার পরবর্তী শুনানি।