বিবাহিত কন্যাকে বাবার পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য না করার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক, স্বেচ্ছাচারী এবং সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের এর বিচারপতি পিএস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায় খারিজ করে দেয়।
আরও পড়ুন:
এলাহাবাদ হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সহানুভূতিভিত্তিক চাকরি (কমপ্যাশনেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট)-র ক্ষেত্রে বিবাহিত মেয়েরা ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞার মধ্যে পড়েন না। ২০১৯ সালের একটি সরকারি নির্দেশিকাতেও বিবাহিত কন্যাদের এই সুবিধার আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন এক প্রয়াত রেশন ডিলারের মেয়ে। হাইকোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সেই মামলার শুনানিতেই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, শুধুমাত্র বিবাহিত হওয়ার কারণে কোনও মেয়েকে পরিবারের নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে অস্বীকার করা যায় না।
আরও পড়ুন:
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, অনেক ক্ষেত্রেই বিবাহিত মেয়েরা বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন বা তাঁদের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকেন।
তাই একজন ব্যক্তি বিবাহিত কি না, তার ভিত্তিতে নির্ভরশীলতার প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায় না।আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট আরও মন্তব্য করেছে, ছেলেরা বিয়ের পরও পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়, অথচ মেয়েদের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়। এই ধারণা সমাজে লিঙ্গবৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করে। আদালতের মতে, সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে এমন বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অসঙ্গত।
এই রায়কে নারী অধিকার ও সমঅধিকারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।