পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েন আরও তীব্র হল। তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষ থেকে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিঠিতে মোট ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু বিরোধী দলনেতা নয়, বিধানসভায় তৃণমূলের কারা উপদলনেতা সে বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও, মুখ্য সচেতকের পদেও কারা দায়িত্বে থাকবেন, সেই প্রস্তাবও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া নথিতে উপদলনেতা হিসেবে সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক হিসেবে রাখা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম। উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অধ্যক্ষ ওই চিঠি গ্রহণ করেছেন বলে বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে পাঠানো একটি চিঠিকে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, সেই নথিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। পরে বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে সিআইডিও তদন্তে যুক্ত হয়। ইতিমধ্যে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে মতভেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে দলের ভিতরে বিভাজন স্পষ্ট হতে শুরু করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার বিরুদ্ধে দলীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর একাধিক বিধায়ক প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী বিধায়করা নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করতে শুরু করে। সেই আবহেই একদিকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবিতে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়, অন্যদিকে ঋতব্রতের সমর্থনে ৫৮ বিধায়কের স্বাক্ষরিত নথি স্পিকারের কাছে জমা পড়ে। বুধবার বিধানসভায় স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন কয়েকজন বিধায়ক। তাঁরা চিঠি জমা দেন। যদিও স্পিকার তা গ্রহণ করলেও কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। সূত্রের খবর, চিঠিতে থাকা স্বাক্ষরগুলি যাচাই করার জন্য তিনি কিছুটা সময় নিয়েছেন। বিকেলের মধ্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্রোহী কয়েকজন বিধায়ক জানিয়েছেন, তাঁদের আপত্তি দলের বর্তমান সাংগঠনিক নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে, তবে দলনেত্রী হিসেবে মমতার নেতৃত্বে তাঁদের আস্থা অটুট রয়েছে।