পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ফলতায় ভোটের ময়দান থেকে আগেই সরে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। ফলে ফলতায় কার্যত পুষ্পাবিহীন ভোট হয়েছে। পুনর্নির্বাচনের দু’দিন আগে জাহাঙ্গির ভোটের ময়দান ছেড়ে সরে যাওয়ার ঘোষণা করায় ফলতায় বিজেপির জয় মোটামুটি নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শেষ দিনের প্রচারে গিয়ে সেখানে বিজেপি প্রার্থীর এক লক্ষ ভোটে জয়ের লক্ষমাত্রা বেঁধে দিয়েছিলেন। আর ভোটের ফলেও তার অন্যথা হল না। ফলতায় শেষ হল পুষ্পা জমানা। শেষমেশ বিজেপি প্রার্থী সেখানে জিতলেন ১ লাখ ৯ হাজারের বেশি ভোটে। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর মাত্র কয়েক হাজার ভোট পেয়ে রয়েছেন চতুর্থ স্থানে।

যদিও দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম। 

ফলতায় পুনর্নির্বাচন হয়েছিল গত ২১ মে। তবে তার আগেই জাহাঙ্গীর জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। যদিও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তবে তাঁর ঘোষণার পর অবশ্য ভোটের দিন তাঁকে ময়দানে দেখা যায়নি। আজ ফলাফলেও তাঁকে দেখা যায়নি। এমনকি ভোটকেন্দ্র ও গণনাকেন্দ্রেও তৃণমূলের কোনও এজেন্ট দেখা যায়নি। এদিন ভোট গণনা শুরু হতেই প্রথম রাউন্ডের পর থেকে এগিয়ে ছিলেন বেজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা।

ভোট গণনা শেষ হতেই সেখানে বিজেপি নেতা কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেবাংশু পেয়েছেন ৭০ শতাংশের বেশি ভোট। উল্লেখ্য, গত লোকসভা ভোটে এখানে ১ লক্ষ ৭০ ভোটে লিড পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে এবার জাহাঙ্গীর পেলেন ৭ হাজারের কিছু বেশি ভোট। যদিও এখানে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। সিপিএমের প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি সাড়ে ৪০ হাজার ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসও এখানে তৃণমূলের থেকে বেশি ভোট পেয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ১০ হাজার ভোট।
এদিন ফলতা আসন জেতার ফলে ২০২৬ সালের ভোটে বিজেপির মোট আসন হল ২০৭ টি।    

ফলতায় জয়ের পর বিজেপি প্রার্থী বলেন, এখানে জলের সমস্যা থেকে শুরু করে আরও অনেক সমস্যা ছিল। বিধায়ক হিসেবে সেই সমস্যার সমাধান করবেন তিনি। দেবাংশু আরও বলেন, ফলতায় কারও চোখরাঙানি চলবে না, কোনও ভয় দেখানো চলবে না। ফলতা ফলতার মতো চলবে। একইসঙ্গে তৃণমূল ও জাহাঙ্গীরকে নিশান করে তিনি বলেন, "তৃণমূল শেষ, জাহাঙ্গীরও শেষ। এদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে সেগুলো খতিয়ে দেখবে পুলিশ।" সিপিএম কেন দ্বদিতিয় স্থানে উঠে এল সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মুসলিম এলাকার লোক আমাদের ভোট দেয়নি। আমরা হিন্দু এলাকার ভোট পেয়েছি। মুসলিম ভোট সিপিএম পেয়েছে। তাই তারা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।"