পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। শাসকদল থেকে দূরে সরে আসা বহু নেতা-কর্মী নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন দলে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দল থেকে হাত শিবিরে আসতে ইচ্ছুক নেতা-কর্মীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিল মালদা জেলা কংগ্রেস। তাদের জন্য ৬ দফা নির্দেশিকা জারি করল জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব।

গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদায় কোনো আসনে জয় না পেলেও মালদা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র এখনও কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। পাশাপাশি ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন এবং জেলার ১৫টি ব্লকের প্রতিটিতেই কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় রয়েছে।

গত দেড় দশকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার কারণে কংগ্রেসের বহু নেতা ও কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রভাব কমে যাওয়ায় তাঁদের অনেকেই আবার পুরনো রাজনৈতিক ঠিকানায় ফেরার চেষ্টা করছেন। কেউ বিজেপিতে যোগদানের চেষ্টা করলেও, তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের ব্যাপারে বিজেপির অনীহার বার্তা পাওয়ার পর অনেকের নজর ঘুরেছে কংগ্রেসের দিকে।

তবে কংগ্রেসে ফেরা এত সহজ হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। বাংলার একমাত্র কংগ্রেস সাংসদ এবং মালদা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে আসা নেতা-কর্মীদের দলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ছয়টি শর্ত বেঁধে নির্দেশিকা দিয়েছেন। 

ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে-কোনো ব্যক্তিকে দলে নেওয়ার আগে ব্লক, অঞ্চল এবং জেলা স্তরের কংগ্রেস কমিটি তার আবেদন ও রাজনৈতিক অতীত বিস্তারিতভাবে যাচাই করবে।

যদি কোনো আবেদনকারী গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হন, তাহলে তাঁর জনপ্রিয়তা, জনসংযোগ এবং অতীত কাজের মূল্যায়ন করা হবে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্দেশিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে কংগ্রেসে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইশা খান চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতির বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান সম্পূর্ণ আপসহীন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।

এছাড়াও কংগ্রেসে যোগ দিতে আগ্রহীদের জনগণের স্বার্থে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও নীতিকে সম্মান করার অঙ্গীকার করতে হবে।

 

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, কংগ্রেস কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির মঞ্চ নয়, বরং এটি জনসেবামূলক ও আদর্শভিত্তিক একটি রাজনৈতিক সংগঠন। 

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, কোনো আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকলে তাঁর আবেদন বিবেচনাই করা হবে না। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কংগ্রেসে যোগদানের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো ধরনের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবেন না। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, যোগদান সম্পূর্ণ নিঃশর্ত হতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মেনে নিতে হবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, নতুন সদস্যদের দলীয় শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে বহিষ্কারও করা হতে পারে। দলীয় কর্মীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।