পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে শুভেন্দু অধিকারীর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয়ের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত কোন আসনটি তিনি নিজের কাছে রাখবেন। এই জল্পনার মধ্যেই বুধবার নন্দীগ্রামে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

শুভেন্দু জানান, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর নির্ভর করছে। তাঁর কথায়, দলের শীর্ষ নেতারা যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই তিনি মেনে নেবেন। ব্যক্তিগত মতামত থাকলেও তা তিনি দলের অন্দরে জানাবেন বলেই স্পষ্ট করেছেন।

পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই কেন্দ্রের মানুষের প্রতিই তাঁর দায়বদ্ধতা সমান থাকবে। যে কেন্দ্রই শেষ পর্যন্ত রাখুন না কেন, দায়িত্ব পালনে কোনও খামতি হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি।

রাজনীতির ময়দানে শুভেন্দুর পথচলা শুরু হয়েছিল পরিবার থেকেই। বাবার হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করেন তিনি। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে উঠে আসেন। পরবর্তী সময়ে বিধায়ক, সাংসদ এবং রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।

তবে সময়ের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত দলত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করেন তিনি। দুই হাজার কুড়িতে গেরুয়া শিবিরে যোগদানের পর দ্রুত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করেন। ধীরে ধীরে রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ের পর বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পান। আর এবারের নির্বাচনে তাঁর সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

নন্দীগ্রামে প্রায় নয় হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি ভবানীপুরেও পনেরো হাজারের বেশি ভোটে জিতে নিজের রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বুধবার সকালে জয়লাভের পর নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া, হরিপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় যান শুভেন্দু। সেখানে তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। ফুল-মালায় বরণ করে নেন তাঁকে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এবার তাঁকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে দেখতে চান তারা।

যদিও নতুন সরকারের নেতৃত্বে কে থাকবেন, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে বেশ এগিয়েই রয়েছে। এ নিয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ফলে শুভেন্দুর আসন নির্বাচন এবং মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দুই নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজ্য রাজনীতিতে।