পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে ভোট-পরবর্তী অশান্তি ঘিরে ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে প্রশাসন। লালবাজারের পর এবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানীভবন থেকেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, বুলডোজ়ারের ভয় দেখিয়ে অশান্তি সৃষ্টি বা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
বুধবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানান, রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
তিনি জানান, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কয়েকটি জায়গা থেকে গোলমালের খবর এলেও বুধবার সকাল থেকে নতুন করে কোথাও অশান্তির ঘটনা সামনে আসেনি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে পুলিশ জোরদার পদক্ষেপ করেছে। এখনও পর্যন্ত ভোট-পরবর্তী হিংসা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে মোট ২০০টি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই সূত্রে ৪০০- এরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য গোলমাল এড়াতে প্রায় ১১০০ জনকে সতর্কতামূলকভাবে আটক করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
এদিন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের যে নিরাপত্তা প্রাপ্য, তা বহাল রয়েছে। তবে অতিরিক্ত যে নিরাপত্তা বলয় আগে দেওয়া হয়েছিল, তা আপাতত প্রত্যাহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্যের নাগরিকদের উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানিয়ে সিদ্ধনাথ বলেন, কোনও অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি থানায় জানাতে হবে। কেউ যেন কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।
তিনি আশ্বাস দেন, যদি কোনও ব্যক্তি ভয় বা অন্য কারণে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে পুলিশ নিজ উদ্যোগেই অভিযোগ নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।আরও পড়ুন:
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীও রাজ্য পুলিশকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যে এই মুহূর্তে পাঁচশো কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজ্যস্তরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে যৌথ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু হয়েছে। একই ব্যবস্থা জেলাস্তরেও কার্যকর করার কাজ চলছে।