পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় উত্তেজনার খবর সামনে আসছে। বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং বিজয় মিছিলকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা পুলিশ। নগরপাল অজয় নন্দা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। এমনকী এই সমস্ত জেসিবি ভাড়া যারা দিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন মেনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

 

পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন,  শহরে কোনও বিজয় মিছিল করতে হলে আগে থেকে পুলিশের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া রাস্তায় নেমে জমায়েত বা মিছিল করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজয়োৎসবে মেতেছে বিভিন্ন জায়গার সমর্থকেরা। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই কিছু জায়গায় অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ, একদল যুবক বিজয় মিছিলের নামে বাজার সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকানপাটের কাঠামো ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরই প্রশাসন আরও সতর্ক হয়ে ওঠে এবং শহরে এই ধরনের শক্তি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

নগরপাল জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আশি জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্তও শুরু হয়েছে।তিনি সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখলে বা সমস্যায় পড়লে সরাসরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষে যোগাযোগ করতে হবে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিকে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী অশান্তি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসন,  পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশও দিয়েছেন।