পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর মসনদে বড়সড় ওলটপালট। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের দায় স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ডিএমকে (DMK) সুপ্রিমো এম.কে. স্ট্যালিন। অভিনেতা বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK)-এর ঝড়ে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে শাসক দল। তবে এই বিদায়লগ্নেও স্ট্যালিনের রাজনৈতিক অবস্থানে বজায় থাকল এক অদ্ভুত কাঠিন্য; ইস্তফাপত্র থেকে সামাজিক মাধ্যম—কোথাও বিজয়ী দল বা বিজয়ের নাম উচ্চারণ করলেন না তিনি।
আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজয়ের দল TVK ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ডিএমকে জোট মাত্র ৫৯টি আসনে থমকে গিয়েছে। এই বিশাল হারের পরেই রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন স্ট্যালিন। মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ার সময় স্ট্যালিন যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুরো প্রচার পর্ব থেকে শুরু করে পরাজয়ের পর ‘এক্স’-এর বার্তাতেও তিনি বিজয়ের দলকে কেবল "ওই দল" বা "সেই পক্ষ" বলে সম্বোধন করেছেন। একবারের জন্যও ‘বিজয়’ বা ‘টিভিকে’ নাম দুটি মুখে আনেননি তিনি।আরও পড়ুন:
পরাজয় সত্ত্বেও নিজের জোটের শক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্ট্যালিন জানান, রাজ্যের প্রায় ১.৫৪ কোটি ভোটার তাঁদের জোটকে সমর্থন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জয়ী পক্ষ মাত্র ১৭.৪৩ লক্ষ ভোট বা ৩.৫২ শতাংশের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়লাভ করেছে।
স্ট্যালিনের কথায়, "গণতন্ত্রে মানুষই আমাদের শ্রদ্ধার যোগ্য। তাঁদের জন্যই আমরা দল করি, রাজনীতি করি।"আরও পড়ুন:
পরাজয়কে বিপর্যয় হিসেবে দেখতে নারাজ করুণানিধি-পুত্র। দলের কর্মী-সমর্থকদের ‘আন্দোলনের প্রাণভোমরা’ হিসেবে সম্বোধন করে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ডিএমকে-র দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে জয় এবং পরাজয় দুই-ই এসেছে। তিনি বলেন, "আমরা ক্ষমতায় থাকলে মানুষের জন্য প্রকল্প তৈরি করি, আর বিরোধী আসনে থাকলে মানুষের দাবির জন্য লড়াই করি। পেরিয়ার, আন্না এবং করুণানিধির আদর্শ কখনও পরাজিত হতে পারে না।"