মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে বরগি ড্যামে প্রমোদতরী দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩। আরও একজনের দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই সংখ্যা নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত প্রমোদতরীটি মধ্যপ্রদেশ সরকারের পর্যটন দপ্তরের অধীন এবং প্রায় ২০ বছর পুরনো। প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

ক্রুজের চালক মহেশ প্যাটেল নিজেও এই ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার আগে তিনি রিসর্টের হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে কোনও সহায়তা মেলেনি।

মহেশ প্যাটেল জানান, “খামারিয়া দ্বীপ থেকে যাত্রা শুরুর সময় আবহাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু মাঝনদীতে হঠাৎ ঝড় ওঠে। কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছিল না।

ঝড় শুরু হতেই আমরা দ্রুত ক্রুজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি, কিন্তু ততক্ষণে নৌকায় জল ঢুকতে শুরু করে।”

এই আকস্মিক দুর্যোগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—পুরনো প্রমোদতরী ব্যবহার, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের অভাব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার মতো বিষয়গুলো কি এই বিপর্যয়কে আরও ভয়াবহ করে তুলল?

প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা মানদণ্ডে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে সাহায্য এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।