পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হজ যাত্রীদের বিমান ভাড়া বৃদ্ধি এবং আবাসন ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) নেতা ওয়ারিস পাঠান। হাজিদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। প্রায় ৪ লক্ষ টাকা দিয়েও হাজিদের কেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মিম নেতা। একইসঙ্গে বিমান ভাড়ায় মাথাপিছু ১০,০০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ওয়ারিস পাঠান।

এক সংবাদ সংস্থাকে ওয়ারিস পাঠান অভিযোগ করে বলেন, "হাজিদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।

একজন সাধারণ মানুষ কষ্ট করে টাকা জমিয়ে হজে যাচ্ছেন, কিন্তু আপনারা তাঁকে কী সুবিধা দিচ্ছেন? এক একটি ঘরে ১৬ জন করে মানুষকে রাখা হচ্ছে। এর দায় কার? এই অব্যবস্থাপনার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।" তিনি আরও দাবি করেন, ৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও যদি তীর্থযাত্রীদের ভিড় ঠাসা ঘরে থাকতে হয়, তবে সেই টাকার উপযোগিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে।

হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়া একটি সাম্প্রতিক সার্কুলারে জানিয়েছে, এ বছর প্রত্যেক হাজিকে অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা বিমান ভাড়া বাবদ দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বিমানের জ্বালানির (ATF) দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিমান সংস্থাগুলি মূলত মাথাপিছু ৪০০ মার্কিন ডলার ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিল। কেন্দ্রের দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পর সেই বৃদ্ধির পরিমাণ কমিয়ে ১০০ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

বিমানের জ্বালানির দাম বাড়ার যুক্তিকে ঢাল করে কেন্দ্র ভাড়া বৃদ্ধির কথা বললেও, বিরোধীরা একে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা হিসেবে দেখছে। ওয়ারিস পাঠানের মতে, বিমান ভাড়া যখন বাড়ানো হচ্ছে, তখন কেন সুযোগ-সুবিধার মান কমে যাচ্ছে, সেই বিষয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন।