পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ছুটি কাটাতে দিদিমার বাড়িতে এসে চরম নৃশংসতার শিকার হলো চার বছরের এক শিশু। পুণের নাসরাপুর গ্রামে তাকে ধর্ষণ করে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুনের অভিযোগ উঠল ৬৫ বছর বয়সী এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবার নাসরাপুর বনধের ডাক দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি তার দিদিমার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির কাছেই একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে যৌন হেনস্থা করার পর নিজের পরিচয় আড়াল করতে শিশুটিকে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করে। অপরাধ ঢাকতে শিশুটির নিথর দেহ গোয়ালঘরের ভেতর গোবরের স্তূপের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়। বিকেলে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তল্লাশি শুরু করলে গোয়ালঘর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। সূত্রের খবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটির দেহ স্থানীয় থানার কাছে আনা হলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
শত শত গ্রামবাসী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং পথ অবরোধ করেন। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার নাসরাপুর গ্রামে সম্পূর্ণ বনধ্ পালিত হচ্ছে। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি ও বাসিন্দারা এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। সকালে ভৈরবনাথ মন্দির থেকে একটি বিশাল 'নিষেধ মোর্চা' বা প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। কয়েকশো মানুষ এই মিছিলে অংশ নিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুণে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল উত্তেজিত জনতাকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, পুলিশ এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, "আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে। মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে চালানো হবে যাতে অপরাধী দ্রুত কঠোরতম শাস্তি পায়।" পুলিশ ইতিমধ্যেই ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার বিশদ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এই নারকীয় ঘটনায় গোটা মহারাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।