পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাডকি বহিন’ প্রকল্পে বড়সড় কাটছাঁট করল রাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক এক রাজ্যব্যাপী যাচাইকরণ অভিযানের পর প্রায় ৬৯ লক্ষ মহিলাকে এই প্রকল্পের উপভোক্তার তালিকা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁদের পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে সমস্ত মহিলারা প্রকল্পের সমস্ত শর্তাবলী পূরণ করবেন, কেবল তারাই আগামী দিনে এই আর্থিক সহায়তা পাবেন।

২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন একনাথ শিন্ডে এই প্রকল্প চালু করেছিলেন, তখন প্রায় ২.৪৬ কোটি মহিলা আবেদন জানিয়েছিলেন।

কিন্তু স্ক্রুটিনি এবং ই-কেওয়াইসি যাচাইয়ের পর বর্তমানে যোগ্য উপভোক্তার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭৭ কোটিতে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, যে ৬৯ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বহু আবেদনকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক বা ডিজিটাল যাচাইকরণ সম্পূর্ণ করেননি। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া নথিতে অসঙ্গতি বা অসম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক আয়ের মাপকাঠি বা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে না পারা।
নথিপত্র আপডেটের জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। গত ৩০ এপ্রিল ছিল এর চূড়ান্ত সময়সীমা, যা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী।

এদিকে সরকার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর অভিযোগ উঠেছিল, বহু অযোগ্য ব্যক্তি জালিয়াতি করে এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, যার ফলে সরকারি কোষাগারের ক্ষতি হচ্ছে। এরপরই রাজ্যজুড়ে কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। সরকারি এক আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “সরকার বারবার সময় দেওয়া সত্ত্বেও যারা নিয়ম মানেননি, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”