পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধন বা মিতব্যয়ী হওয়ার আবেদন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক বিতর্ক। সোমবার কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতো বিরোধী দলগুলি একযোগে কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা করে একে ‘নীতিগত ব্যর্থতা’ বলে তোপ দেগেছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, সরকার কি বড় কোনও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার কথা গোপন করে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝার দায় চাপাচ্ছে?

হায়দরাবাদে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতির মোকাবিলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, জ্বালানির ব্যবহার কমানো, সোনা কেনা পিছিয়ে দেওয়া এবং সম্ভব হলে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দেন। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মোকাবিলায় এই ‘সামষ্টিক অংশগ্রহণ’ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শকে ‘ব্যর্থতার দলিল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “মোদিজি গতকাল সাধারণ মানুষের কাছে ত্যাগ স্বীকারের দাবি জানিয়েছেন—সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, পেট্রোল কম ব্যবহার করুন, মেট্রোয় চড়ুন। এগুলি কোনও উপদেশ নয়—এগুলি সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ।

বিরোধীরা একযোগে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন, কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো যার জন্য পিএমও থেকে এই ধরণের কড়া নির্দেশিকা জারি করতে হচ্ছে? তিনি অবিলম্বে সংসদ ডাকার দাবি জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেছেন, মাসের পর মাস বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা চলা সত্ত্বেও সরকার ভারতের জ্বালানি স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি। তিনি একে ‘লজ্জাজনক ও অনৈতিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে প্রশ্ন তুলেছেন, দেশ কি বৈদেশিক মুদ্রার সংকট বা ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট সংকটের দিকে এগোচ্ছে? তাঁর খোঁচা, “মন্ত্রীরা যদি বায়ুসেনার বিমানে ঘোরেন এবং বড় কনভয় নিয়ে চলেন, তবে শুধু সাধারণ মানুষ কেন ত্যাগ স্বীকার করবে?”